খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫
পশ্চিম আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলভুক্ত নাইজারের তিলাবেরি এলাকায় এক সশস্ত্র হামলায় পাঁচজন ভারতীয় নাগরিককে অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা। গত সপ্তাহে সংঘটিত এ হামলার তথ্য এতদিন গোপন থাকলেও বুধবার (৩০ এপ্রিল) ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্য সরকার কর্তৃক নাইজারে পাঠানো একটি অনুরোধপত্র রয়টার্সের হাতে পৌঁছালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
নাইজারের দুইটি নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ওই হামলায় ১২ জন সৈন্য নিহত হন। হামলাটি ঘটে ত্রি-সীমান্ত এলাকার সাকোইরা গ্রামের কাছে—যেখানে নাইজার, বুরকিনা ফাসো ও মালি সীমান্তে মিলিত হয়েছে।
অপহৃত ভারতীয়রা কান্দাদজি বাঁধ প্রকল্পে কাজ করছিলেন এবং তারা একটি ভারতীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছিলেন। ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, পাঁচজনই রাজ্যের বাসিন্দা এবং তিলাবেরি অঞ্চলে কর্মরত ছিলেন। ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নাইজারে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস তাদের মুক্তির জন্য দেশটির কর্তৃপক্ষের সহায়তা চেয়েছে।
অপহরণকারীদের আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত না করা গেলেও, নাইজারের নিরাপত্তা বাহিনী সন্দেহ করছে, ইসলামিক স্টেটের সহযোগী Islamic State in the Greater Sahara (ISGS) গোষ্ঠী এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। সম্প্রতি ওই ত্রি-সীমান্ত এলাকায় একটি মসজিদে হামলার জন্যও এই জঙ্গি গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়, যেখানে ৪৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, নাইজার, মালি এবং বুরকিনা ফাসো বর্তমানে আল কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট-সংযুক্ত জিহাদি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াই করছে। এই বিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল ২০১২ সালে উত্তর মালিতে তুয়ারেগদের আন্দোলন থেকে, যা পরবর্তীতে বিস্তৃত হয়ে পড়ে পুরো সাহেল জুড়ে।
চলতি বছরে অপহরণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। জানুয়ারিতে একজন অস্ট্রিয়ান নারী এবং এপ্রিলের শুরুতে এক সুইস নাগরিক নাইজারে অপহৃত হন। এছাড়া জানুয়ারিতেই নাইজার ও বুরকিনা ফাসোর সীমান্তে নিখোঁজ হন চারজন মরক্কোর ট্রাকচালক।
সাহেল অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
খবরওয়ালা/এমবি