খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে বৈশাখ ১৪৩২ | ২ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
তীব্র গরমের কারণে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লাখ লাখ মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটানো হচ্ছে আশপাশের গ্রামের নলকূপ ও পুকুর থেকে। এতে স্থানীয় জনগণের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয়রা জানান, তীব্র খরায় পুকুর-ডোবা শুকিয়ে গেছে। গ্রামগুলোর গভীর নলকূপ থেকে প্রতিদিন শত শত লিটার পানি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন এনজিও কর্মীরা, যা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সাধারণ নলকূপগুলো থেকে পানি উঠছে না। আগে যেসব নলকূপ থেকে সারাদিন পানি পাওয়া যেত, এখন সেখানে এক বালতি পানিও পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশেষ করে টেকনাফ পৌরসভা, সদর, হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সাবরাং ও উখিয়ার রাজাপালং, পালংখালি ও জালিয়াপালং ইউনিয়নে খাবার পানির ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। এসব অঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ নিয়মিত খাবার পানি পাচ্ছেন না।
হোয়াইক্যংয়ের বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, আমাদের গ্রামে যাদের বাড়িতে গভীর নলকূপ আছে, তারাই কেবল পানি পাচ্ছেন। আগে যেসব নলকূপ থেকে আমরা খাওয়ার পানি পেতাম, এখন সেখান থেকেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে প্রতিবেশীর নলকূপ থেকে এক বালতি পানি এনে রান্নার কাজ চালাতে হচ্ছে।
টেকনাফ পৌরসভার বাসিন্দা রহিম উল্লাহ বলেন, পানি নিতে দীর্ঘ লাইন ধরে দাঁড়াতে হয়। গোসল, কাপড় ধোয়া, রান্না—সব কিছুতেই পানি নিয়ে কষ্ট হচ্ছে। অথচ আমাদের এলাকা থেকেই প্রতিদিন গভীর নলকূপের পানি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিক্রি হচ্ছে।
কুতুপালংয়ের বাসিন্দা রশিদ আমিন বলেন, রোহিঙ্গারা ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছে, অথচ আমরা খাবার পানির জন্য হাহাকার করছি। পানি স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় আমাদের নলকূপে পানি উঠছে না।”
পালংখালির রহিমা বেগম বলেন,গত এক মাস ধরে আমাদের বাড়ির নলকূপে পানি উঠছে না। পুকুরও শুকিয়ে গেছে। খুব কষ্টে আছি।
এ বিষয়ে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমেদ আনোয়ার বলেন, আমাদের গ্রামে অনেক আগে থেকেই পানির সমস্যা। যাদের বাড়িতে পানির সংকট, তাদের জন্য সরকারিভাবে গভীর নলকূপ বসিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক তীব্র গরমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
পালংখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম জাতীয় কমিটির মহাসচিব গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এবারের গরমে পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। একদিকে স্থানীয়রা পানির কষ্টে ভুগছে, অন্যদিকে গ্রামের গভীর নলকূপ থেকে পানি বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। এখনই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহেসান উদ্দিন বলেন, যেসব এলাকায় পানির সংকট রয়েছে, সেখানে পানি সরবরাহের চেষ্টা চলছে। এনজিওদের সহায়তায় পৌরসভাসহ কয়েকটি এলাকায় বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খবরওয়ালা/এমবি