বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ মে ২০২৫
উজানে টানা ভারি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা ও বাঙালি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, জুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত এ পানি ওঠানামা করবে, তবে বর্তমানে কোনো নদীতেই পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
সারিয়াকান্দির মথুরাপাড়া পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি গত বৃহস্পতিবার (২২ মে) ছিল ১৩.৮৬ মিটার, যা সোমবার (২৬ মে) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪.০০ মিটারে। অর্থাৎ তিন দিনে যমুনার পানি ১৪ সেন্টিমিটার বেড়েছে। যদিও এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৬.২৫ মিটার হওয়ায় এখনো ৩.২৫ মিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, বাঙালি নদীর পানিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার এর উচ্চতা ছিল ১৩.০৫ মিটার, যা রোববার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩.৭৬ মিটারে— তিন দিনে বৃদ্ধি পেয়েছে ৭১ সেন্টিমিটার। সারিয়াকান্দিতে বাঙালি নদীর বিপৎসীমা ১৫.৪০ মিটার, ফলে এ নদীর পানিও বিপৎসীমার ১.৬৪ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানিবৃদ্ধির ফলে দুই নদীতেই স্বাভাবিক প্রবাহ ফের এসেছে। এর ফলে শুকিয়ে যাওয়া অনেক খালে পানি ফিরে এসেছে, যা চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনকে সহজ করে তুলেছে। বিশেষ করে সারিয়াকান্দির কালিতলা নৌঘাটে নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে এবং বন্ধ থাকা দূরপাল্লার নৌরুটগুলো আবার সচল হয়েছে।
সারিয়াকান্দির কালিতলা নৌঘাটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখান থেকে দূরপাল্লার সকল ধরনের নৌকাগুলো এখন খুব সহজেই চলাচল করতে শুরু করেছে এবং একসময় বন্ধ হওয়া সকল ধরনের নৌরুটগুলো চালু হয়েছে।
বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে যমুনা এবং বাঙালি নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দুই নদীতেই পানি স্থিতিশীল হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে দু একদিনের মধ্যেই পানি কমে যাবে। তারপর আবারো বাড়বে। আগামী জুন মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত পানি এরকম কমবেশির মধ্যেই থাকবে। তবে জুন মাসের শেষের দিক থেকে পানি একেবারে স্থায়ীভাবে বাড়তে শুরু করবে। এ মুহূর্তে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার কোনও সম্ভাবনা নেই।
খবরওয়ালা/আরডি