খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ২৭ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
মাথায় চুল প্রতিস্থাপনের পরপরই বিনীত কুমার দুবে এবং প্রমোদ কাটিয়ার নামে ভারতের দুই প্রকৌশলী মৃত্যুবরণ করেন। চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তিনি ছিলেন পলাতক। দীর্ঘ কয়েক মাস পর তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। খবর এনডিটিভির।
ঘটনাটি ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে ঘটেছে।
গত মার্চে এই দুইজন একটি হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করান। অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তারা মৃত্যুবরণ করেন। অভিযুক্ত চিকিৎসক ডেন্টিস্ট অনুস্কা তিওয়ারি নিজেই এই অপারেশন করেছিলেন। অথচ এই পদ্ধতি তার চিকিৎসা বিষয়ের নয়।
নিহত বিনীত কুমারের স্ত্রী জয়া ত্রিপাঠী জানান, ১৩ মার্চ তার স্বামীর অস্ত্রোপচার হয়। পরদিন ১৪ মার্চ জানানো হয়, তার স্বামীর মুখ ফুলে গেছে। এরপর তিনি চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাননি। রাত ১১টার দিকে একবার যোগাযোগ হলে চিকিৎসক স্বীকার করেন যে কোনো ধরনের মেডিকেল টেস্ট না করেই তিনি এই অস্ত্রোপচার করেছেন। ওই রাতেই স্বামীকে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, কিন্তু ১৫ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
জয়ার অভিযোগ, প্রাথমিকভাবে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। ফলে তিনি ৯ মে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ কেন্দ্রে অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ মামলা গ্রহণ করে।
সরকারি কৌঁসুলি দিলীপ সিং জানান, অনুস্কা তিওয়ারির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। একজন দাঁতের চিকিৎসক হয়েও তিনি চুল প্রতিস্থাপনের মতো অস্ত্রোপচার করেছেন, যার পর্যাপ্ত প্রমাণ তাদের কাছে আছে। কাকাদেব থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে অনুষ্কা তিওয়ারি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আত্মসমর্পণের পর তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এখনো প্রমাণ সংগ্রহ চলছে এবং তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে আরও কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা।
খবরওয়ালা/এমইউ