খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ১০ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
রাজশাহীর পুঠিয়ায় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে এক কাঠ ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না পাওয়ার জের ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। সোমবার (৯ জুন) দুপুরে এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
এই ব্যবসায়ীর নাম আবদুল হান্নান। তিনি উপজেলার হাতিনাদা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আওয়ামী লীগের একজন সমর্থক হলেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছেন। অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। একই সঙ্গে তিনি বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
পুঠিয়া থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ আগস্টের পর বানেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তবে তা দিতে অস্বীকার করে আসছিলেন এ ব্যবসায়ী। এরপরও বিএনপি নেতা ব্যবসায়ীকে চাঁদার জন্য মাঝে মধ্যেই তাগাদা দিয়ে আসছিলেন।
গত ৯ জুন বিকালে বিএনপি নেতা রফিকুলের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নানের হাতিনাদা গ্রামের বাড়িতে হানা দেয়। তারা প্রথমে হান্নানের বাড়ির সবকটি ঘরে লুটপাট চালিয়ে ভাঙচুর করে। পরে বাড়ির পেছনের দুটি ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ব্যবসায়ী হান্নান ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রাণভয়ে প্রতিবেশীর একটি ধানের চাতালে আশ্রয় নেন। অগ্নিসংযোগের ফলে বাড়ির একটি ছাগল পুড়ে মারা গেছে। আরেকটি দগ্ধ হয়েছে।
ব্যবসায়ী আবদুল হান্নানের অভিযোগ, বিএনপি নেতা রফিক ও তার অনুসারীরা বাড়ির মূল্যবান সব জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছেন। যেগুলো নিয়ে যেতে পারেনি সেগুলো ভাঙচুর করে নষ্ট করে গেছেন।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতা রফিকুলের সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আমি আওয়ামী লীগের কোনো রাজনীতিও করি না। তবে সমর্থন করি। আমার কোনো পদ নেই। আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলাও নেই। আমার অপরাধ এটুকুই। গত ৫ আগস্টের পর থেকে রফিকুল পাঁচ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে সকাল-বিকাল বিরক্ত করে আসছিল। সর্বশেষ গত ৯ জুন সকালেও তিনি চাঁদা পরিশোধের তাগাদা দিয়েছে। আমি তাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলাম জীবন গেলেও এক টাকা চাঁদা দিব না। বিকালেই সে আমার বাড়িতে তাণ্ডব চালালেন। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করলেন।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা রফিকুলের ব্যবহৃত নাম্বারে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ বলছে, রফিকুল ও তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।
রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, ‘ঘটনাটি আমার এলাকাতেই ঘটেছে। আমি লোকমুখে শুনেছি। রফিকুল যদি সত্যিই এ অপকর্ম করে থাকে আমরা দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, ‘ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সোমবার রাতে রফিকুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
খবরওয়ালা/এসআর