খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ জুন ২০২৫
চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানায় চাঁদাবাজির মামলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এক নেতাকে গ্রেপ্তারের পর নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত হাবিবুর রহমান একটি চাঁদাবাজির মামলার ৫ নম্বর আসামি। কিন্তু মামলার বাদী থানায় এসে জানান, তিনি হাবিবুরকে চেনেন না। এর পরই পুলিশ তাকে বাদীর জিম্মায় ছেড়ে দেয়।
শুক্রবার (২১ জুন) সকাল থেকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা চান্দগাঁও থানার সামনে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ করেন। সকাল ৯টার দিকে তারা থানাকে ঘিরে ফেলে স্লোগান দিতে থাকেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান ইসলামী আন্দোলনের চান্দগাঁও থানার শাখার সেক্রেটারি। তিনি এলাকায় যানবাহন থেকে চাঁদা আদায়ের বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিলেন। দলটির অভিযোগ, এ কারণেই একটি প্রভাবশালী মহল ষড়যন্ত্র করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করিয়েছে।
চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাজী মনিরুল করিম জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জিডি করতে থানায় আসলে হাবিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ১৮ জুন দায়ের হওয়া একটি মামলায় ১৭ জনের মধ্যে নাম ছিল। মামলাটি করেছিলেন মো. শিপন নামের এক ব্যক্তি।
তবে পুলিশের দাবি, শুক্রবার বাদী শিপন থানায় এসে বলেন, “আমি হাবিবুর রহমানকে চিনি না।” এছাড়া মামলার ভিত্তি হিসেবে যে ভিডিও দেখানো হয়েছে, তাতেও হাবিবের মুখ দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন পাঁচলাইশ অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আরিফ হোসেন। এসব বিবেচনায় বাদীর জিম্মায় হাবিবুরকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ইসলামী যুব আন্দোলনের চট্টগ্রাম মহানগর সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান বলেন, “কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় অবৈধ চাঁদাবাজি রোধে গঠিত কমিটির সদস্য ছিলেন হাবিবুর। এ কারণে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন তিনি। পরে মামলার বাদী নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি হাবিবকে চেনেন না।”
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হবে।
খবরওয়ালা/এমএজেড