খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
সরকারি শাস্তির হুমকির মধ্যেও আজ শনিবার সারাদেশে আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানিয়েছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। একইসঙ্গে শুরু হয়েছে সর্বাত্মক শাটডাউন, যার আওতায় দেশের রাজস্ব দপ্তরগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। তবে, আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা এই শাটডাউনের বাইরে থাকবে বলে জানিয়েছে পরিষদ। শুক্রবার (২৭ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এর কিছুক্ষণ আগে এনবিআরের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কর্মরত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত, অফিস ত্যাগ, দেরিতে অফিসে উপস্থিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগেও, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়—আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো পুনর্বিবেচনায় নেওয়া হবে, এবং রাজস্বনীতি ও ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ সংশোধনের আশ্বাসও দেওয়া হয়। কিন্তু এতে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেননি।
বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে এনবিআর চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিলেও, সেখানে ঐক্য পরিষদের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।
পরিষদ তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাজস্বসংক্রান্ত সংস্কারের দাবিতে এবং এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণ চেয়ে তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। প্রয়োজনে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় বসতে তারা প্রস্তুত, তবে প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে পরিষদ।
আন্দোলনকারীরা এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছেন আগেই। সেনা ও পুলিশের পাহারায় তিনি অফিসে ফেরার পর, একাধিক কর্মকর্তাকে বদলি ও দপ্তরে সেমিনার আয়োজন বন্ধের মতো ঘটনায় আন্দোলন আরও জোরদার হয়েছে।
বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, “রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটলে দেশের অর্থনীতিতে বড় বিপর্যয় আসবে। আমরা আশা করি আন্দোলনকারীরা রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখবেন।”
তবে তিনি সতর্ক করেন, “যদি কোনো ব্যবসায়ী এই আন্দোলনে ইন্ধন দিয়ে থাকে, তাহলে আমরা তাকেও প্রতিরোধ করব।” অর্থ উপদেষ্টার ‘ব্যবসায়ী ইন্ধনের’ অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে বলেন, “এ ধরনের বায়বীয় মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।”
গত মে মাসে এনবিআরকে দুই ভাগ করে ‘রাজস্বনীতি’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ বিভাগ গঠন করে সরকার। এনবিআর কর্মকর্তারা মনে করছেন, এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক স্বাধীনতা খর্ব হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাতিল ও এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনে নামেন তারা।
সরকার অবশ্য জানান দিয়েছে, অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের আগে এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা তা যথেষ্ট মনে করছেন না।
খবরওয়ালা/ এমএজেড