খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে মাঘ ১৪৩২ | ১৫ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার মাঝে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিসিবির অর্থ কমিটির প্রধান এম নাজমুল ইসলামের কুরুচিপূর্ণ ও বিতর্কিত মন্তব্য নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে। এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনার মুখে আজ রাতে এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ড স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, নাজমুল ইসলামের সেই বক্তব্য বিসিবির আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান নয় এবং এর দায়ভার একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত।
বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বোর্ডের কোনো পরিচালক বা সদস্যের ব্যক্তিগত অভিমতকে প্রাতিষ্ঠানিক নীতি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। নাজমুল ইসলামের মন্তব্যে খেলোয়াড় বা সংশ্লিষ্ট কেউ ব্যথিত হয়ে থাকলে তার জন্য বোর্ড আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে যে, এই ধরণের মন্তব্য বিসিবির দীর্ঘদিনের মূল্যবোধ, প্রশাসনিক নীতি কিংবা খেলোয়াড়দের প্রতি প্রদর্শিত আচরণবিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
বিসিবির প্রাতিষ্ঠানিক নীতি এবং নাজমুল ইসলামের বক্তব্যের পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:
| বিষয় | নাজমুল ইসলামের বক্তব্য | বিসিবির নীতি ও অবস্থান |
| বক্তব্যের উৎস | ব্যক্তিগত ও অপেশাদার আলাপ। | কেবল মনোনীত মুখপাত্র ও মিডিয়া বিভাগের বক্তব্য। |
| খেলোয়াড়দের সম্মান | পারফরম্যান্স নিয়ে ব্যঙ্গ ও খরচের ‘খোঁটা’। | ক্রিকেটারদের সম্মান ও সুস্থতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। |
| আর্থিক দৃষ্টিভঙ্গি | ব্যর্থতার জন্য অর্থ ফেরত চাওয়ার ইঙ্গিত। | পেশাদারিত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা। |
| পরিণাম | কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। | শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি। |
বুধবার বিকেলে মিরপুরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নাজমুল ইসলাম দাবি করেন যে, বিশ্বকাপে অংশ না নিলেও ২০২৭ সাল পর্যন্ত বিসিবির আয়ে কোনো হেরফের হবে না। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ক্রিকেটাররা প্রাইজমানি ও ম্যাচ ফি হারিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এই ক্ষতি বোর্ড পূরণ করবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, “ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, তবে ওদের পেছনে আমরা যে কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, তা কি ফেরত চাচ্ছি?” তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, ক্রিকেটাররা এখন পর্যন্ত বড় কোনো বৈশ্বিক পুরস্কার এনে দিতে পারেননি, তাই তাঁদের পেছনে খরচ করা বৃথা।
তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্রিকেট ভক্তদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, ক্রিকেটারদের খেলাকে পুঁজি করেই যেখানে বোর্ডের শত কোটি টাকা আয় হয়, সেখানে খেলোয়াড়দের এভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা কতটা সমীচীন।
বিসিবি জানিয়েছে, ক্রিকেটারদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন কিংবা বাংলাদেশের ক্রিকেটের সুনাম নষ্ট করে এমন যেকোনো মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বোর্ড পুনঃব্যক্ত করেছে যে, তাঁরা ক্রিকেটারদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় সদা তৎপর। কেবল মনোনীত মুখপাত্র ব্যতীত অন্য কারো বক্তব্যকে বোর্ড ধারণ করে না। নাজমুল ইসলামের মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন অপেশাদার মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে আভাস দেওয়া হয়েছে।
বিসিবি শেষ পর্যন্ত এটিই নিশ্চিত করতে চায় যে, মাঠের লড়াকু সৈনিক অর্থাৎ ক্রিকেটারদের সাথে বোর্ডের সম্পর্ক সবসময় সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং এই ধরণের ব্যক্তিগত বিচ্ছিন্ন ঘটনা সেই সম্পর্কে কোনো ফাটল ধরাবে না।