খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
বাংলাদেশে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনায় অভিযুক্তদের জামিনের পর ফুল দিয়ে বরণ করার প্রবণতা বাড়ছে, যা সমাজে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৩৮৩টি। এর মধ্যে মাত্র ৩১১টি ঘটনায় মামলা হয়েছে, বাকি ৭১টি ঘটনায় কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আরও ভয়াবহ তথ্য হলো—১৬ জন নারী ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন এবং পাঁচজন আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনি দৃষ্টিকোণে অভিযুক্ত প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা যায় না। কিন্তু জামিনপ্রাপ্তদের গলায় ফুলের মালা পরানো বা ‘নায়কের’ মতো বরণ করে নেওয়ার ঘটনা নিঃসন্দেহে নারীর প্রতি সহিংসতার বিচার ও প্রতিরোধের প্রক্রিয়াকে অবমাননাকরভাবে হেয় করছে।
সম্প্রতি দুইটি আলোচিত ঘটনায় এ ধারা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
চট্টগ্রামে ২৮ মে জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের বিক্ষোভ চলাকালে এক নারীসহ দুজনকে লাথি মারে ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মী আকাশ চৌধুরী। ভিডিও ভাইরাল হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু ৪ জুন জামিনে মুক্তির পর আকাশকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। এতে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
একইভাবে মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পোশাক নিয়ে এক নারীকে হেনস্তার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারী মোস্তফা আসিফ অর্ণবকে গ্রেপ্তার করা হয়। জামিনের পর তাকেও ফুল ও পাগড়ি দিয়ে ‘বীরের’ সম্মান জানানো হয়। জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী পরবর্তীতে নানা চাপ ও হুমকির মুখে মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।
এই প্রবণতা নতুন নয়। অতীতেও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় নারী নিপীড়ন বা হেনস্তার অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের ফুল দিয়ে বরণ করার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু বিচারের পথ রুদ্ধ করে না, বরং অপরাধপ্রবণতাকে সামাজিক স্বীকৃতি দেয়।
এক মানবাধিকার কর্মীর ভাষায়, “যেখানে নির্যাতনের শিকার নারীকে সমাজ ‘বিতর্কিত’ বানিয়ে তোলে, সেখানে অভিযুক্তরা ফুল পায়—এটাই আমাদের বিচার ও মানবিকতার মুখ।”
খবরওয়ালা/এমএজেড