খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে আষাঢ় ১৪৩২ | ৩০ই জুন ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল গত বছরের (২০২৪) জুলাই-আগস্টে সংঘটিত আন্দোলন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। সম্প্রতি ভার্চুয়ালি অংশ নেওয়া একাধিক অনলাইন টকশোতে তিনি এই আন্দোলনের পেছনের গভীর ষড়যন্ত্র, গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতা এবং সরকারের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ছিল বলে দাবি করেন।
নওফেল জানান, জুলাইয়ের শুরুতেই দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরকারকে সম্ভাব্য সরকারবিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে সতর্ক করেছিল, কিন্তু সরকার সেই বার্তা গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি এবং আন্দোলনের অর্থপ্রবাহ বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তার মতে, গোয়েন্দা সংস্থার কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পর্যন্ত এই ষড়যন্ত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘সরকারের অভ্যন্তরের একটি অংশ শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে। সেইসঙ্গে একটি সরকারি সংস্থা থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস হয়ে আন্দোলনকারীদের হাতে পৌঁছে যায়, যা তারা গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে কৌশলে ব্যবহার করে আন্দোলনকে জোরদার করে। সরকারি পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও আন্দোলনকারীরা তা এড়িয়ে যায় এবং আরও সংগঠিতভাবে আন্দোলন চালিয়ে যায়।
শিক্ষা উপমন্ত্রী দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালাতে তিনজন নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে তিনিও ছিলেন। নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনেকেই সুপ্রশিক্ষিত ও সংঘবদ্ধ ছিল, এবং তাদের আচরণ ‘জঙ্গি ধাঁচের’ বলে মনে হয়েছে।’
নওফেল আরও বলেন, ‘হলি আর্টিজানের জঙ্গিরা যদি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে আসতে পারে, তাহলে এই জঙ্গিরা এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।’ তিনি এসব তথ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আকারে জমা দিয়েছেন বলেও জানান।
তার মতে, আলোচনায় অংশ নেওয়া ছাত্রনেতারা আগেই গোপন সরকারি তথ্য জানত, যা তাদের জানার কথা নয়। এতে বোঝা যায়, তাদের পেছনে ছিল একটি বড় শক্তি। তিনি বলেন, ‘চাকরির নিশ্চয়তা কিংবা সহপাঠীদের মৃত্যুর বিচার ছাত্রদের মূল উদ্দেশ্য ছিল না; বরং আন্দোলনের আড়ালে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা চলছিল।’
নওফেল আরও জানান, ১৭ জুলাইয়ের পর ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা এলাকা দিয়ে প্রায় ৬ লাখ নতুন সিম ঢুকেছে, যা গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নজরদারির বাইরে থেকে যায়। এটি গোয়েন্দা তৎপরতার ঘাটতি এবং মনিটরিংয়ের ঘাটতির পরিষ্কার প্রমাণ।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আন্দোলনে আহতদের দেখতে গেলে চিকিৎসকরা তাকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আহতদের আচরণ দেখে মনে হয়েছে তারা সুপ্রশিক্ষিত সন্ত্রাসী বা জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্য হতে পারে।’
সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্যে, ব্যারিস্টার নওফেল আন্দোলনের মূল সমন্বয়কারী হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘ইউনূস সেন্টারের’ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লামিয়া মোর্শেদের নাম উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, আন্দোলনটি কেবল ছাত্রদের নিজস্ব উদ্যোগ ছিল না—বরং এটি একটি প্রভাবশালী মহলের তত্ত্বাবধানে এবং সুপরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী ছিলেন। তিনি প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে। তার সাম্প্রতিক বক্তব্য জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা তৈরি করেছে।