খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
জুলাই-আগস্টের নায়করা ভিলেনের আচরণ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন টিভি উপস্থাপক ও সাংবাদিক জিল্লুর রহমান। তিনি বলেছেন, তাদের এসব কর্মকাণ্ড আমাকে গ্রহণ করতে হবে কেন। সরকারের একজন উপদেষ্টা ভুল করে একটা অস্ত্র বা আধা অস্ত্র কেন এয়ারপোর্টে নিয়ে যাবেন—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেশের সমসাময়িক পরিস্থিতি তুলে ধরে এ কথা বলেন তিনি।
জিল্লুর রহমান বলেন, ‘অন্তর্বতীকালীন সরকার ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামনে পেছনে যারা আছেন ,তারা আসলে নির্বাচন চান না, ক্ষমতায় থাকতে চান, তাদের আদর্শিক দিকগুলোকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ৫৩ থেকে ৫৪ বছরে যে আইডেন্টিটি দাঁড়িয়েছে, সেখান থেকে সরিয়ে একটা নতুন আইডেন্টিটি তারা বাংলাদেশকে দিতে চান। আপনি যদি এর বিরোধিতা করেন, আমার মত দ্রুত নির্বাচন চান বা এই সরকারের সমালোচনা করেন তখন আপনাকে বলা হবে আপনি স্বৈরাচারের দোসর। আপনি আওয়ামী লীগের কতটা বিরোধিতা করেছেন কিংবা আওয়ামী লীগের সময় কতটা নির্যাতিত হয়েছেন সেসব কিছু যায় আসে না।’
জিল্লুর রহমান বলেন, ‘সব আন্দোলনকে স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে তুলনা করা যায় না। নিঃসন্দেহে ২০২৪ এর জুলাই-আগস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নব্বই এর গণ অভ্যুত্থানও কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, এর বাইরেও গত ৫৩-৫৪ বছরে বাংলাদেশের মানুষ বহু সংগ্রাম করেছে। কিন্তু সবকিছুকে আপনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্মের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন না। জন্মকে কি অস্বীকার করা যায়? ঐ জন্ম না হলে কিছুই হতো না, তাই এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘৭১ কে অস্বীকার করে, ছোট করে কোন কিছু গ্রহণযোগ্য না। এরমধ্যে অনেকে ৪৭কে টেনে বলেন ৪৭ না বুঝলে ৭১ গ্রহণযোগ্য না। ইতিহাসের ৪৭ কেন আপনি হাজার বছরের ইতিহাস আমি চর্চা করতে পারেন।কিন্তু ৪৭ টেনে এর মধ্যে যে আদর্শিক দিকটাকে প্রধান করে তুলবার চেষ্টা, সেটা একটা ভ্রান্ত অথবা উদ্দেশ্য প্রণোদিত চেষ্টা ।
জিল্লুর রহমান বলেন, আমরা যখন লক্ষ্য করছি যে তারা সবকিছুতে ডিক্টেট করবার চেষ্টা করছে, তাদের কথাই সবাইকে শুনতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোকে শুনতে হবে, তখন তো সংশয় জাগতেই পারে। এছাড়া তাদের কথার সঙ্গে অনেকে পছন্দ করেন না এমন অনেক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক মিলে যায় তখন তো আমাকে আঁতকে উঠতে হয়। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসে এর চাইতে বড় গৌরবজনক অধ্যায় কিছু নেই ।কেউ কেউ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কেউ কেউ জিয়াউর রহমানকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যান্যদেরকে নিয়েও নানাভাবে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেটা আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যে আছে। কিন্তু তাঁদের প্রত্যেককে সম্মান জানানো উচিত এবং শ্রদ্ধার জায়গা রাখা উচিত।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব সামনের সারির ছাত্রনেতারা বেশি নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘এই আন্দোলনের কৃতিত্ব সামনের সারিতে যে কয়জন ছাত্রনেতা ছিলেন তাদের মধ্যে কয়েকজন অনেক বেশি নিয়েছেন। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারা ক্ষমতার অংশীদার হয়েছেন। এরপরে তারা রাজনৈতিক দল করার উদ্যোগ নিয়েছেন। ৮ই আগস্টের পর থেকে ক্রমাগত এই ছেলে মেয়েগুলোকে বিশেষ করে ছেলেগুলোকে বদলে যেতে দেখা যাচ্ছে। সবাই নয় কারণ ঐ আন্দোলনে যারা সমন্বয়ক ছিলেন সবাই তাদের সঙ্গে দল করেননি, সবাই ক্ষমতার অংশীদার হননি। বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাদ্রাসার স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা তাদের শিক্ষাঙ্গনে ফেরত গেছে আর যারা রাজনৈতিক দলে ঢুকেছেন তাদের অনেকে আবার দল ছেড়ে চলেও যাচ্ছেন। তার একটা বড় উদাহরণ উমামা ফাতেমা।’
খবরওয়ালা/এসআর