ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞের

ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার ফ্রানচেসকা আলবানিজ। এতে আন্তর্জাতিক সহায়তা বন্ধ ও দেশটির ওপর পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই আহ্বান জানান। ইসরায়েলের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে তিনি আখ্যা দেন ‘গণহত্যার অর্থনীতি’ হিসেবে।

আলবানিজ এদিন তাঁর উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি দমন–পীড়ন ও সহিংসতায় সহায়তাকারী বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবস্থা ভয়াবহ। ইসরায়েল আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর গণহত্যার জন্য দায়ী।’

জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের টানা হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৭ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। লাখ লাখ মানুষ বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, শহর ও গ্রাম মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ধ্বংস হয়ে গেছে হাসপাতাল ও স্কুল। গাজার ৮৫ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

‘ফ্রম ইকোনমি অব অকুপেশন টু ইকোনমি অব জেনোসাইড’ শীর্ষক আলবানিজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কীভাবে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ইসরায়েলের দখলদারি ও উপনিবেশ গঠনের পরিকল্পনাকে টিকিয়ে রাখছে, তা বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান যেন একেকটি করপোরেট যন্ত্র, যারা ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ ও ইহুদি বসতি সম্প্রসারণে ইন্ধন জোগাচ্ছে।

প্রতিবেদনে ইসরায়েলের সহিংসতায় সহায়তাকারী কয়েকটি অস্ত্র, প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি নির্মাতা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামও উল্লেখ করা হয়। কেউ নজরদারির প্রযুক্তি দিচ্ছে, কেউ সরাসরি বসতি সম্প্রসারণে সহায়তা করছে।

আলবানিজ বলেন, ‘যখন রাজনৈতিক নেতারা গাজায় রক্তপাত থামাতে ইসরায়েলকে চাপ দেওয়ার দায়িত্ব এড়াচ্ছেন, তখন করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ওই দখলদারি, বর্ণবাদ ও গণহত্যা থেকে মুনাফা করছে।’

প্রতিবেদনে এসব প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনে জড়িত এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ‘অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা ফিলিস্তিনের এই ধ্বংসযজ্ঞ ও সহিংসতা থেকে সরাসরি লাভবান হয়েছে। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেল আবিব স্টক এক্সচেঞ্জে অন্তত ২০০ শতাংশ দর বেড়েছে, বাজারে যুক্ত হয়েছে ২২ হাজার কোটি ডলারের বেশি।’

আলবানিজ বলেন, ‘এক জাতি সমৃদ্ধ হচ্ছে, আরেক জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হচ্ছে। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, কারও কারও জন্য গণহত্যাও লাভজনক।’

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের সামরিক-শিল্প খাত দেশটির অর্থনীতির মূলভিত্তি। দখলদারি ও সামরিক অভিযান তাদের কাছে যুদ্ধাস্ত্র পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফ্রানচেসকা আলবানিজ জানান, এসব অস্ত্রনির্মাতা প্রতিষ্ঠান রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা করেছে, এবং সেসব অস্ত্র দিয়ে গাজায় ৮৫ হাজার টন বিস্ফোরক ফেলা হয়েছে— যা হিরোশিমার পরমাণু বোমার চেয়ে ছয় গুণ বেশি শক্তিশালী।

খবরওয়ালা/এন

Tags :

নিউজ ডেস্ক | খবরওয়ালা বাংলা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।