খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় মাত্র ছয় বছর বয়সী এক শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৫ জুলাই) রাতে নিজ বাড়ির রান্না ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির নাম রাখি মজুমদার, সে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
নিহত রাখি রাজৈর উপজেলার সাতপাড় গ্রামের বাসিন্দা শিশির মজুমদারের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার পরিবারের সদস্যদের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ছোট্ট রাখি বিয়েবাড়িতে না গিয়ে বাড়ির পাশের রথের মেলায় যেতে চায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে অনেক বোঝানোর পরও সে মেলায় যাওয়ার বায়নায় অটল ছিল। একপর্যায়ে তার মা তাকে কিছু টাকা দিয়ে একাই বাড়িতে রেখে বিয়ের অনুষ্ঠানে যান।
বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পর ঘরে ঢুকে রান্না ঘরের দরজা খুলতেই মা দেখতে পান—রাখির নিথর দেহ রান্নাঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছে। তার গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নামিয়ে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে মরদেহ বাড়িতে এনে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। রাতে রাজৈর থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে এবং রোববার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
রাখির স্বজন কালীদাস মজুমদার বলেন, ‘সবাই চেয়েছিল বিয়েবাড়ি থেকে খেয়ে এসে রথের মেলায় যাবে। কিন্তু রাখি বিয়েতে যেতে রাজি ছিল না। আমরা ভাবিনি এমন কিছু ঘটবে।’
এ বিষয়ে রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, ‘ঘটনাটি সন্দেহজনক। একটি শিশু কীভাবে রান্নাঘরের আড়ায় ঝুলে আত্মহত্যা করতে পারে, তা নিয়ে আমরা নিশ্চিত নই। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একইসঙ্গে উঠছে নানা প্রশ্ন—শিশুটির মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে আছে কোনো গভীর রহস্য? পুলিশ তদন্তে নেমেছে।
খবরওয়ালা/আরডি