খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো (এনবিএফআই) জালিয়াতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির কবলে পড়ে চরম সংকটে পড়েছে। ঋণ আদায় না হওয়া এবং ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে খেলাপি ঋণের হার লাফিয়ে বাড়ছে। গত মার্চ শেষে এই খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৩৫ শতাংশেরও বেশি।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ২,১০০ কোটি টাকা। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন ব্যাংকের মতো এনবিএফআইগুলোকেও একীভূত (মার্জ) করার পথে হাঁটছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই খাতের দুরবস্থার পেছনে অন্যতম বড় উদাহরণ পি কে হালদার কেলেঙ্কারি। তার মালিকানাধীন বা প্রভাবাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে খেলাপির হার সবচেয়ে বেশি। শুধু তার নয়, অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম-দুর্নীতি অব্যাহত রয়েছে, যার দায় এড়াতে পারে না নিয়ন্ত্রক সংস্থাও।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ব্যাংকগুলোর মতো ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংকট থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রয়োজনে কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
বর্তমানে দেশে ৩৫টি এনবিএফআই রয়েছে। এর মধ্যে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০টি প্রতিষ্ঠানের অবস্থা চরম নাজুক। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ২২টি প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের বিষয়ে ভাবছে। এসব প্রতিষ্ঠান আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে পারছে না, আবার নতুন আমানত সংগ্রহেও ব্যর্থ হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদ ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘অনেক নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান মানুষের কাছ থেকে ফিক্সড ডিপোজিট নিয়ে তা আত্মসাৎ করেছে। যেহেতু নতুন ব্যাংক লাইসেন্স না পেয়ে এরা সহজেই জালিয়াতির পথে হাঁটছে, তাই এসব প্রতিষ্ঠানের আর কোনো প্রয়োজন নেই। এগুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিত।’
তিনি আরও বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যই ছিল সন্দেহজনক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকেরও উচিত ছিল আরও সক্রিয় ও কঠোর হওয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু এনবিএফআইয়ের সংখ্যা কমালেই চলবে না। প্রয়োজন এই খাতের অনিয়মে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা।
খবরওয়ালা/আরডি