খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
চাঁদপুরের একটি মসজিদে খুতবা চলাকালে খতিবের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
শনিবার (১২ জুলাই) বিকেলে চাঁদপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদের আদালতে হাজির করা হলে, আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এ ঘটনায় আহত খতিব মাওলানা আ. ন. ম. নূরুর রহমান মাদানির ছেলে আফনান তাকি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই নাজমুল হোসেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি আব্দুল কাদের খান ও জেলা জজ আদালতের এপিপি ইয়াসিন আরাফাত ইকরাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চাঁদপুর কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক শহীদুল্লাহ জানান, আসামিকে বিকেল ৩টার দিকে আদালতে আনা হয়। সেখানে জবানবন্দির পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে, গত ১১ জুলাই জুমার নামাজের পর, চাঁদপুর পৌর এলাকার প্রফেসর পাড়া মোল্লা বাড়ি জামে মসজিদে, খতিব মাওলানা আ. ন. ম. নূরুর রহমান মাদানি হামলার শিকার হন। জানা যায়, ওই এলাকার এক ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রেতা বিল্লাল হোসেন খুতবার একটি অংশ—“রাসূল (সা.) বার্তা বাহক”—বিষয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে চাপাতি দিয়ে খতিবের মাথা ও কানে গুরুতর আঘাত করেন। মুসল্লিরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং হামলাকারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
এই ঘটনার পর শহরে গুজব ছড়ায় খতিব মারা গেছেন। তবে খতিবের ছেলে আফনান তাকি জানান, তাঁর বাবা বর্তমানে ঢাকার হলি কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তিনি শঙ্কামুক্ত।
ঘটনার প্রেক্ষিতে শান্তি বজায় রাখতে বিকেল ৩টায় চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জেলার রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া বিকেল ৫টায় জামায়াতে ইসলামী চাঁদপুর শহর শাখা এক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল বের করে রেলওয়ে বায়তুল আমিন জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে প্রশাসন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
খবরওয়ালা/টিএস