খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১৪ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আগামী ৫ আগস্ট দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান। সেই আন্দোলনের জন্য পরিকল্পনা ঘোষণা করতে এসে দলটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্দাপুর যেন উল্টো সংশয় তৈরি করলেন। রোববার লাহোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানালেন, পিটিআই আগামী ৯০ দিনের জন্য একটি ‘চূড়ান্ত লড়াই’-এর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই ঘোষণার ফলে অনেকেই ধরে নিচ্ছেন, ৫ আগস্টের বিক্ষোভের পরিকল্পনা হয়তো স্থগিত হয়ে গেছে বা তার স্থানেই এসেছে নতুন এই তিন মাসব্যাপী আন্দোলন। একইসঙ্গে, এই ঘোষণায় বিভ্রান্ত হয়েছেন পিটিআই কর্মীরাও।
সংবাদ সম্মেলনে গান্দাপুর বলেন, ‘গত রাত থেকেই আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে।’ যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করেননি, পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জানান, রাজনৈতিক উপায়ে আন্দোলন ৫ আগস্টের মধ্যে চূড়ায় পৌঁছানো হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে—আমরা আদৌ রাজনীতি করব কিনা। যদি রাজনৈতিক পথ ফলপ্রসূ না হয়, তাহলে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করব।’
গান্দাপুর আরও বলেন, ‘আমরা হয় করব, নয় মরব (ডু অর ডাই)। কারণ এই দেশে এখন আর কোনো রাজনীতিই নেই।’
দলেই ভিন্নমত
সংবাদ সম্মেলনে পিটিআই পাঞ্জাবের প্রধান সংগঠক আলিয়া হামজা মালিক অনুপস্থিত ছিলেন। পরে এক টুইটে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘ইমরান খানের মুক্তির জন্য কী কৌশল নেওয়া হয়েছে? কোথা থেকে ও কীভাবে আন্দোলন শুরু হবে? কে ৫ আগস্টের পরিকল্পনা বাতিল করে ৯০ দিনের সময়সীমা দিল?’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘গত দুই দিন আমি কোথায় ব্যস্ত ছিলাম, সেটাও তো জানি না!’ এই মন্তব্যে তিনি প্রকাশ্যেই পিটিআই মহাসচিব সালমান আকরাম রাজাকে কটাক্ষ করেন। সংবাদ সম্মেলনে রাজা দাবি করেছিলেন, আলিয়া ‘ব্যস্ত’ ছিলেন বলেই উপস্থিত হতে পারেননি।
এদিকে পিটিআইয়ের অনেক কর্মী অভিযোগ করেছেন, ৫ আগস্টের আন্দোলন ঘিরে কোনো পরিষ্কার কর্মপরিকল্পনা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। অনেকেই মনে করছেন, দলটি যেন তাদের ঐ কর্মসূচি থেকে অব্যাহতি দিয়ে দিয়েছে।
সংলাপের প্রস্তাব
গত সপ্তাহে ইমরান খানের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হলেও, গানডাপুর আবারও সেনাবাহিনীর প্রতি ‘খোলামেলা আলোচনার প্রস্তাব’ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখন খোলামেলাভাবে সংলাপের প্রস্তাব দিচ্ছি। যদি তা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে আমরা নিজেদের নির্ধারিত লক্ষ্য ও সময়সীমা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আর সেই রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সময় নষ্ট করতে চাই না, যাদের হাতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। বরং যারা সত্যিকারের ক্ষমতায় আছেন, তাদের সঙ্গেই আমরা কথা বলতে চাই।’
খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী এ সময় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করেন বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় সন্ত্রাসবাদের বৃদ্ধির জন্য। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার গঠন বা ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিষ্ঠানগুলো বলে, তারা নাকি অরাজনৈতিক!’
খবরওয়ালা/এন