খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ব্যাটিং ব্যর্থতা আর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সহীনতায় যখন সমালোচনার ঝড় বইছে, ঠিক সেই সময় রুক্ষ ভাষায় নিজের ক্ষোভ ঝাড়লেন দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন। সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দল আমার বাপ-দাদার সম্পত্তি না। কেউ ভালো না করলে সমালোচনা হবে, এটাকেই স্বাভাবিকভাবে নিতে হবে।’
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টি-টোয়েন্টিকে সামনে রেখে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন সালাহ উদ্দিন। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং ব্যর্থতায় হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে দাপুটে জয়ে সিরিজে সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচের আগে দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্স নিয়ে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন সহকারী কোচ সালাহ উদ্দিন, যিনি মূলত ব্যাটিং বিভাগের দায়িত্বই দেখছেন।
প্রশ্নের মুখে কিছুটা বিরক্ত হয়ে সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘আমি দলের জন্য শতভাগ দিচ্ছি কিনা, নিজের জায়গায় সৎ কিনা, সেটাই মুখ্য বিষয়। বাহবা বা সমালোচনা যেটাই হোক, সেটা মেনে নিতে হবে। যদি কেউ এসে দলের জন্য ভালো কিছু করে, আমি সরে যেতে রাজি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে যদি ১৩ বছর বয়সী ছেলেদের কোচিং করাতেও বলা হয়, তাতেও আমার সমস্যা নেই। আমি কোচিং করতে ভালোবাসি, এতে কোনো ইগো নেই। আমি ট্যাগধারী কোচ না যে শুধু জাতীয় দলেই থাকব।’
বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে চারবার শিরোপা জেতানো সালাহ উদ্দিন দেশের অন্যতম সফল ঘরোয়া কোচ হলেও জাতীয় দলে তার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। সেই প্রেক্ষাপটেই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘দলে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে লিখে দিন। ২৭-২৮ বছর ধরে কোচিং করানোর পরও যদি কেউ অভিযোগ তোলে, সেটা লিখে দিলে আমি বুঝতে পারি, কোথায় ভুল করেছি। তাহলে তো শুধরে নেওয়া যায়।’
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সালাহ উদ্দিনকে সিনিয়র সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রথমে চুক্তি ছিল ২০২৫ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পর্যন্ত। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে তা ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত করা হয়েছে।
যখন লিটন দাস, শান্ত, বা তাওহীদ হৃদয়দের ব্যাটিং ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন সহকারী কোচ হিসেবে সালাহ উদ্দিনের ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা স্বাভাবিক। তবে নিজের দায়িত্ব ও দায় নিয়ে তিনি যে পালিয়ে যেতে নারাজ, তার আজকের বক্তব্যে তা পরিষ্কার। এখন দেখার বিষয়, মাঠে তার শিষ্যরা তাকে কতটা ‘প্রতিদান’ দিতে পারেন।
খবরওয়ালা/এন