নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। বাকি মাত্র তিন মাস। অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম এজেন্ডা এই নির্বাচন। প্রধান উপদেষ্টা একাধিকবার জানিয়েছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই কারণে রাজনৈতিক অঙ্গন এখন অনেকটাই নির্বাচনমুখী।
আসনভিত্তিক সমাবেশ, গণসংযোগ এবং মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সরব উপস্থিতি তা স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে। ঠিক এমন মুহূর্তে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন, “উপদেষ্টাদের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে ফেলেছেন। তারা এখন নিজেদের সেফ এক্সিট বা নিরাপদ প্রস্থান নিয়ে ভাবছেন।”
নাহিদ ইসলামের এ মন্তব্যে মুহূর্তে রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ে উত্তাপ। টেলিভিশনের টক শো ও সামাজিকমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে নাহিদের মন্তব্য নিয়ে কথা বলছে। নানান আলোচনা হচ্ছে সরকারের ভিতরেও। আলোচনার পাশাপাশি অনেকে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
নির্বাচনের আগে উপদেষ্টাদের আচরণ কেন হঠাৎ আলোচনায় এলো—এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন বলেন, ‘ প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করার পর পুরো প্রশাসন স্থবির হয়ে গেছে। উপদেষ্টারাও একপ্রকার নির্লিপ্ত হয়েছেন। আমাদের প্রত্যাশা তারা পূরণ করতে পারেননি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার মূলত ব্যর্থ। রাজনৈতিকভাবে তারা চাপে রয়েছেন। দেশে বিনিয়োগ নেই, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। বিদেশী বিনিয়োগও নেই। গত এক বছরে প্রায় ২০০ হাজার গার্মেন্টস বন্ধ হয়েছে, লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়েছেন। প্রশাসন নিয়ন্ত্রিত নয়, মব নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে ব্যর্থ। আন্তর্জাতিক সমর্থনও কম।
প্রশাসনিক অস্থিরতা, অব্যবস্থাপনা এবং ভাড়া করা লোকজনের মাধ্যমে সরকার চালানোর কারণে নিয়মিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিরক্ত। বিভিন্ন দাবি এখনও পূরণ হয়নি। দুর্নীতি প্রতিটি দপ্তরে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে। এক বছরের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, প্রশাসন ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর ঘাটতি সাধারণ মানুষকে হতাশ করেছে।
বিশ্লষকরা বলছে, এই ব্যর্থতা উপদেষ্টাদের ‘সেফ এক্সিট’ বা নিরাপদ প্রস্থান নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। নির্বাচন ঘিরে এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াচ্ছে। এছাড়া এটি সাংবিধানিকভাবে একটি অবৈধ সরকার। পরবর্তি সরকার এই অন্তবর্তী সরকারের বৈধতা না দিলে উপদেষ্টাদেরও শাস্তির আওতায় আসতে হবে। এখনো জুলাই সনদ চূড়ান্ত হয়নি। মূলত এ শঙ্কায় পেয়ে বসেছে উপদেষ্টাদের। এজন্য তারা সেফ এক্সিটের কথা ভাবছেন।
একই প্রসঙ্গে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “সেফ এক্সিট আলোচনার প্রথম কারণ উপদেষ্টাদের অসংলগ্ন মন্তব্য। উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এই বিষয়টি উন্মোচন করেছেন। প্রথমে সরকারের সঙ্গে এনসিপির সমন্বয় ছিল, কিন্তু পরে পার্থক্য তৈরি হয়েছে। চরিত্রগত দিক থেকে এ সরকার দলনিরপেক্ষ। কিন্তু এক বা দুই দলকে সমর্থন দেওয়ার কারণে তাদের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। ফলে মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিতে পারে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন ঘিরে তৎপরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপদেষ্টারা নিজেদের রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছেন। সেফ এক্সিট ধারণা এ অবস্থাকে প্রতিফলিত করছে—একটি সরকার যা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ, প্রশাসনিক চাপে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতায় ঘেরা।
খবরওয়ালা/এমএজেড