খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
যশোরের কেশবপুরে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। মূলত টানা বর্ষণ ও হরিহর নদের পানি বৃদ্ধির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। নলকূপগুলো ডুবে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।পাশাপাশি গবাদি পশু নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয়রা।
যশোরের কেশবপুর শহরের মধ্যকুল খানপাড়া এলাকায় বাসিন্দা জাহানারা খাতুন জানান, বসতঘরে পানি উঠে গেছে। তাই মালামাল গুছিয়ে অন্যত্র যেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, গত বছরও হরিহর নদের পানি ঢুকে আমাদের এলাকা প্রায় ছয় মাস পানির নিচে ছিল। এবারও একই পরিস্থিতির মুখে পড়েছি।
সদর ইউনিয়নের মধ্যকুল গ্রামের বাসিন্দা রুপালি খাতুন বলেন, গত কয়েকদিনের বৃষ্টির পানি বের হতে না পারায় বাড়ির উঠানে এখন হাঁটুপানি জমে আছে। নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
একই গ্রামের মাসুম বলেন, গরু-ছাগল নিয়ে খুব বিপদে পড়েছি। কোথায় রাখব, কীভাবে রাখব, বুঝে উঠতে পারছি না।
উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী নিয়াজ মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে এ পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সাড়ে তিন হাজার পরিবারের ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে।
কেশবপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল ফজল মো. এনামুল হক বলেন, পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডই কমবেশি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ জলাবদ্ধ পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে জলাবদ্ধ পরিবারের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, নদনদীতে পানিপ্রবাহের জন্য কচুরিপানা অপসারণ অব্যাহত রয়েছে। আপার ভদ্রা নদীতে একটি এক্সক্যাভেটর মেশিন দিয়ে খনন কাজ চলছে। আরেকটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে বুড়িভদ্রা ও হরিহর নদেও খনন করা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
খবরওয়ালা/এফএস