নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
মানবাধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়নে সহায়তার নামে বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের মিশন চালু হতে যাচ্ছে। তিন বছর মেয়াদি মিশন চালুর জন্য দু’পক্ষের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইও হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম চুক্তিতে সই করেছেন।
জেনেভা থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর গতকাল শুক্রবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। ‘এই সপ্তাহে’ চুক্তিটি সই হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
এ খবরে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই অফিসের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ বাড়বে।
বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল সময়ে, এই চুক্তিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন কেউ কেউ। তাদের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটকে কাজে লাগিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার এবং জাতিসংঘ বাংলাদেশে মানবাধিকার কার্যক্রম বিস্তারের সুযোগ নিচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয় বর্তমানে পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে রয়েছে। তবে এই অফিসগুলো সব দেশে নয়, সাধারণত সেইসব দেশে স্থাপন করা হয় যেখানে: যুদ্ধ বা গৃহযুদ্ধ চলছে, মানবিক বিপর্যয় বিদ্যমান, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নিখোঁজ, গণহত্যা বা রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মতো অভিযোগ ব্যাপকভাবে পাওয়া যায়।
উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে: আফগানিস্তান, গিনি, গুয়াতেমালা, হাইতি, ইরাক, প্যালেস্টাইন (ওপট), সুদান, দক্ষিণ সুদান, উজবেকিস্তান, বুরুন্ডি, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো।
এসব দেশে বছরের বড় একটি অংশজুড়ে যুদ্ধ, সহিংসতা, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও মানবিক বিপর্যয় চলে। জাতিসংঘ সেখানে মানবাধিকার অফিস খুলে থাকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ, পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করার জন্য।
রাজধানীর বনশ্রীর বাসিন্দা আসলাম উদ্দিন প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘বাংলাদেশ কি আফগানিস্তান, ইরাক, হাইতি, সুদান কিংবা কঙ্গোর মতো যুদ্ধ বা গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতিতে আছে? “বাংলাদেশে কি গণহত্যা, ব্যাপক নিপীড়ন, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের ভয়াবহ চিত্র বিদ্যমান?”
বিশ্লেষকরা বলছে, দেশে কোনো যুদ্ধ চলছে না, জনগণের মধ্যে হাহাকার নেই, রাষ্ট্র ভেঙে পড়ার মতো মানবিক বিপর্যয়ও বিদ্যমান নয়। এমন প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের এই অফিস স্থাপন রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন তারা।
এ ছাড়া, অনেকের আশঙ্কা—জাতিসংঘ অফিস থাকলে বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, বিচার ব্যবস্থা ও সার্বভৌম নীতিনির্ধারণের ক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। পশ্চিমা দেশগুলোর একটি অংশ মানবাধিকার ইস্যুকে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে-এমন অভিযোগও তুলেছেন অনেকে।
খবরওয়ালা/এমএজেড