খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় গত বছর যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবং আইন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাতে ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্ল্যাহ এ আদেশ দেন।
এর আগে খায়রুল হককে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। তাকে সাদা মাইক্রো গাড়িতে ডিবি পুলিশ নিয়ে আসলে গাড়ির সামনে ও পেছনে পুলিশি নিরাপত্তা দেখা যায়। এ সময় বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা ‘খায়রুলের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’ স্লোগান দেন।
পরে খায়রুল হককে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার পর শুনানি হয়। যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক খালেদ হাসান আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। আসামিপক্ষ জামিনের আবেদন করলেও, রাষ্ট্রপক্ষ কারাগারে রাখার জোর দাবি জানায়। আদালত শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিন সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), পরে তাকে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ির কাজলা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় তার বাবা আলা উদ্দিন গত ৬ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন, যেখানে শেখ হাসিনাসহ ৪৬৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এদিকে, খায়রুল হকের বিরুদ্ধে আরও অন্তত দুটি মামলা রয়েছে। দুর্নীতি ও রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত বছরের ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। এর আগে ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া। এসব মামলায় সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পরিবর্তন ও জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়।
এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয়, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ হয়ে যায়। ২০১৩ সালে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং তিনি কয়েক দফা পুনর্নিয়োগও পান।
খবরওয়ালা/আরডি