খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৮ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক সংক্রান্ত দর-কষাকষির অংশ হিসেবে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, যাদের জন্য এই উড়োজাহাজ কেনা হবে সেই রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন্স বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানায়, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানে না।
রবিবার (২৭ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘আমাদের ইমিডিয়েট কিছু এয়ারক্রাফট দরকার, আমাদের দুয়েক বছরের মধ্যে দরকার, হয়ত আমরা দুয়েক বছরের মধ্যে কিছু পাব। আমাদের বিমানের তো বহর বাড়াতে হবে। সেই পরিকল্পনা সরকারের বেশ আগে থেকেই ছিল।’
তিনি আরও জানান, আগে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার অর্ডার থাকলেও, তা বাড়িয়ে এখন ২৫টি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অতিরিক্ত শুল্ক কমাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন সচিব।
‘আমরা এ বছরে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ ইস্যুতে আবার নতুন করে এই আদেশগুলো দিয়েছি,’ বলেন মাহবুবুর রহমান।
তবে এর প্রতিক্রিয়ায় বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এ বি এম রওশন কবীর বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে অবগত নই।’
উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে সাধারণত প্রস্তাবনা আসে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকেই। সেক্ষেত্রে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইন্সকে না জানিয়ে করা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
বিমান পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য ও এভিয়েশন বিশ্লেষক কাজী ওয়াহেদুল আলম বলেন, ‘এটা আদৌ বিমানের জন্য প্রয়োজন আছে কি না সেটা তো বিমানকে বলতে হবে। আল্টিমেটলি এটাতো বিমানকে চালাতে হবে। এটার অর্থনৈতিক দায়-দায়িত্বও তো বিমানের। বিমানকে ইনভলভ করলে বাঞ্ছনীয় হত।’
তিনি জানান, যেকোনো এয়ারলাইন্সের ‘ফ্লিট প্ল্যানিং কমিটি’ থাকে, যারা এয়ারক্রাফটের ধরন, রুট, রিটার্ন অব ইনভেস্টমেন্টসহ নানা বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাব তৈরি করে পরিচালনা পর্ষদের কাছে পাঠায়। এরপর বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয় কোন কোম্পানির সঙ্গে দর কষাকষি করা হবে।
‘বোর্ড তখন বোয়িং, এয়ারবাসের মত কোম্পানিকে ডাকে। তাদের টেকনিক্যাল ও ফাইনান্সিয়াল অফার চায়। দরকষাকষি করে অতিরিক্ত সুবিধা আদায় করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে,’ বলেন ওয়াহেদুল আলম।
২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সময় এমন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
বর্তমানে বিমানের বহরে রয়েছে ২১টি উড়োজাহাজ, যার মধ্যে ১৬টিই বোয়িংয়ের তৈরি। এর মধ্যে রয়েছে ছয়টি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার, চারটি ৭৭৭-৩০০ ইআর এবং ছয়টি ৭৩৭ ন্যারোবডি। বাকি পাঁচটি স্বল্পপাল্লার ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ।
পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফ্রান্সের এয়ারবাস থেকে ১০টি বড় উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর সেই উদ্যোগ আর অগ্রসর হয়নি।
বাণিজ্য সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং সম্ভাব্য ৩৫ শতাংশ শুল্ক এড়াতেই বোয়িংয়ের কাছ থেকে এই অর্ডার দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বোয়িংয়ের ব্যবসাটা কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সরকার করে না। বোয়িং কোম্পানি করে। আমরা ২৫টি বোয়িং কেনার জন্য অর্ডার দিয়েছি। এরকম অর্ডার ভারত দিয়েছে ১০০টা, ভিয়েতনাম ১০০টা, ইন্দোনেশিয়া ৫০টা।’
এভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিমানকে সম্পৃক্ত না করে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া স্বচ্ছতার অভাবের ইঙ্গিত দেয়।
কাজী ওয়াহেদুল আলম বলেন, ‘আমরা ২০০৮ সালে এই প্রসিডিউরগুলো ফলো করেছিলাম। বিমান বোর্ড তখন বোয়িং ও এয়ারবাস—দুই পক্ষের প্রস্তাব নিয়েই দর কষাকষি করে সিদ্ধান্ত নেয়। এখন যেভাবে করা হচ্ছে, তাতে বিমানের মত একটি কমার্শিয়াল এয়ারলাইন্সকে ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে।’
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
খবরওয়ালা/এসআই