খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
ময়মনসিংহের ত্রিশালে সাবেক সংসদ সদস্য রুহুল আমীন মাদানীর নামে প্রতিষ্ঠিত একটি মসজিদ উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়া কোটি টাকার বেশি অর্থের কাজ তিন অর্থবছরে হাতে নেওয়া হলেও, বাস্তবে একটি প্রকল্পেরও পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের নামে কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
ত্রিশাল সদর ইউনিয়নের পাঁচপাড়া কারিগরি কলেজসংলগ্ন একটি অস্থায়ী টিনশেড ঘরে মসজিদটি অবস্থিত। কিন্তু প্রকল্পপত্রে একই মসজিদের জন্য তিনটি আলাদা নাম ব্যবহার করা হয়েছে—‘চকপাড়া মাদ্রাসাসংলগ্ন নতুন জামে মসজিদ’, ‘নিউ মাদানী জামে মসজিদ’ এবং ‘চক পাঁচপাড়া নতুন জামে মসজিদ’।
প্রথম প্রকল্পটি ২০২২-২৩ অর্থবছরে এডিপি ও রাজস্ব খাতের আওতায় ৪০ লাখ টাকায় ছাদ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ হয়। বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ছিল মেসার্স জাহাঙ্গীর আলম। কিন্তু ভিত্তি নির্মাণ না হওয়ায় ছাদ নির্মাণের বাস্তব কোনো কাজ হয়নি। এরপরও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে এই প্রকল্পকে ‘বাস্তবায়িত’ দেখিয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
পরের বছর, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাধারণ সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (GSIDP-2) আওতায় ৪২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। এবার মসজিদের নাম হয় ‘নিউ মাদানী জামে মসজিদ’। বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা লিজেন্ড এগ্রো ফার্ম নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ২০ শতাংশ ভিত্তির কাজ করেই থেমে গেছে। অথচ উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের তথ্যমতে, এই প্রকল্প থেকে ইতিমধ্যে ২৭ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
একই অর্থবছরে জেলা পরিষদ ‘চক পাঁচপাড়া নতুন জামে মসজিদ’-এর নামে ৭ লাখ টাকার বরাদ্দ দেয়। বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ছিল মেসার্স মাহিন ট্রেডার্স। প্রকল্পের নামে কেবল একটি নামফলক বসিয়ে পুরো প্রকল্পকে ‘সম্পন্ন’ দেখানো হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে দেখা গেছে, মসজিদের স্থানে কিছু রড দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু কাজ বন্ধ বহুদিন। রডগুলোতে মরিচা পড়ে গেছে। এলাকাবাসী খোরশেদ আলম বলেন, ‘একটা মসজিদের নামে কোটি টাকা বরাদ্দ, অথচ আমরা কিছুই জানি না। পুরো বিষয়টাই লুটপাট।’
ঠিকাদারের নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও কোনো সাড়া মেলেনি।
উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল্লাহ খন্দকার প্রথমে জানান, ভিত্তির কাজ শেষ হলে ছাদ নির্মাণ শুরু হবে। কিন্তু ওয়ার্ক অর্ডার ছাড়াই ছাদ নির্মাণকে ‘বাস্তবায়িত’ দেখিয়ে কীভাবে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন গেছে, এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “সে সময়ের কিছু জানি না, নো কমেন্টস।’
ত্রিশালের ইউএনও আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারি বলেন, ‘এটা আমার সময়ের না। বিষয়টি দেখার দায়িত্ব প্রকৌশল দপ্তরের। তবে কেন কাজ বন্ধ রয়েছে, সেটা খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/এমএজেড