খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের ক্লাস বাদ দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষিত ‘জুলাই সমাবেশে’ যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন করেছে।
বুধবার (৩০ জুলাই) বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাদের অভিযোগ তুলে ধরে।
বিক্ষোভে বক্তব্য দেয়, বর্তমান শিক্ষার্থী সাইফুল বারী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী তানজিল আহমেদ ও সজিব আহমেদ প্রমুখ।
সাইফুল বারী বলেছে, ‘এনসিপির নেতাদের নামে মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকালে বিন্দুবাসিনী স্কুলে প্রবেশ করে এবং শিক্ষকদের অনুমতি ছাড়া আমাদের ক্লাস থেকে জোরপূর্বক নিয়ে গিয়ে সমাবেশে যোগ দিতে বাধ্য করে। একপর্যায়ে শিক্ষক-নেতাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয় এবং পরে বাধ্য হয়ে স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়। আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার নেই, কিন্তু কেন আমাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করা হবে? আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।’
প্রাক্তন শিক্ষার্থী তানজিল আহমেদ বলেন, ‘এটা একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। শিক্ষার্থীদের ক্লাস থেকে বের করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জোর করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আগে শোনা যায়নি। যারা এটি করেছে, তাদের শাস্তি চাই। এছাড়া, তারা জনসম্মুখে ক্ষমা চাইলে আমরা পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রস্তুত, কিন্তু তা না হলে আমরা কঠোর আন্দোলন করবো।’
এদিকে, এনসিপি’র জেলা প্রধান সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রাসেল বলেন, ‘এ ধরনের কোনো নির্দেশনা আমাদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। তবে আমরা এ বিষয়ে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ভবিষ্যতে তাদের কোনো প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য বলা হবে না। সেইসঙ্গে শিক্ষকদেরও দুঃখ প্রকাশ করেছি।’
এ ছাড়া, গত মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইল শহরের শামছুল হক তোরণ থেকে জুলাই পদযাত্রা বের হয়, যা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিরালা মোড়ে পথ সমাবেশে মিলিত হয়। এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
শহরে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রায় ৯ শতাধিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।
খবরওয়ালা/আরডি