খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
গাজার ভয়াবহ খাদ্যসংকটের মধ্যে ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ৭১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র। বুধবার (৩০ জুলাই) উত্তর ও দক্ষিণ গাজার দুটি স্থানে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
গাজার গণমাধ্যম কার্যালয়ের তথ্যমতে, উত্তর গাজার জিকিম পয়েন্টের দিকে ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো যাওয়ার সময় ত্রাণ নেওয়ার জন্য জড়ো হন বহু ফিলিস্তিনি। এ সময় ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে হামলা চালালে ৫১ জন প্রাণ হারান এবং অন্তত ৬৪৮ জন আহত হন।
এদিকে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের মোরাগ করিডরের কাছেও একই ধরনের হামলায় আরও ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স।
গেল মে মাসের শেষদিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ নামে একটি বিতর্কিত সংস্থা ত্রাণ কার্যক্রম চালু করে। কিন্তু এ সংস্থার কার্যক্রমে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ত্রাণ যথাযথভাবে বিতরণে ব্যর্থ হওয়া এবং বিতরণ কেন্দ্রগুলোর আশপাশে নিরাপত্তার চরম ঘাটতির কারণেই এমন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
গাজায় এ সময় খাদ্যাভাব চরম আকার ধারণ করেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, উপত্যকায় অপুষ্টিতে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১৫৪ জন। এর মধ্যে ৮৯ জনই শিশু।
আল–জাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বেঁচে থাকার সংগ্রামে লড়ছেন এমন একজন মা জিহান আল-কুরআন। কোলে নিজের ছোট শিশুকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘ওর পেটের দিকে তাকান, শুধু হাড়… মাসখানেক ধরে একটুকরো রুটিও খেতে পাইনি।’
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-এর মুখপাত্র আদনান আবু হাসনা বলেন, “গাজায় যেসব অল্পসংখ্যক ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করে, তার বড় অংশই মানুষের কাছে পৌঁছায় না।”
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজাবাসীর ন্যূনতম খাদ্য চাহিদা পূরণে প্রতিদিন ৫০০-৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করা জরুরি। অথচ গত চার দিনে মাত্র ২৬৯টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে।
বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোও সতর্ক করে বলেছে, গাজায় এখন দুর্ভিক্ষের চিত্র স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
খবরওয়ালা/টিএসএন