খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
সড়ক বিভাজক থেকে বিএনপি নেতার ফেস্টুন অপসারণের কারণে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমেদকে হুমকি দিয়েছেন কে এম জুয়েল নামের এক বিএনপি নেতা। রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জুয়েল ইউএনওকে আগের স্থানেই ফেস্টুন লাগিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিএনপি নেতা জুয়েল গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুলে ইউনিযনের বাসিন্দা। মঙ্গলবার উপজেলা সদরের সড়ক বিভাজকে থাকা বিভিন্ন দলের ফেস্টুন অপসারণ করেন ইউএনও ফয়সাল আহমেদ। বিষয়টি জানতে পেরে ইউএনওকে ফোন করে কটু কথা শোনান জুয়েল।
সেই ফোনকল রেকর্ডে কে এম জুয়েল বলছেন, ‘আজকে একটা ঘটনা ঘটেছে, আমি শুনেছি। আমি ইঞ্জিনিয়ার কেএম জুয়েল বলছি, সম্ভাব্য ক্যান্ডিটেট। আপনার গোদাগাড়ী থানার প্রোপারে যে পোস্টার সরিয়েছেন, এই বিষয়ে কিছুক্ষণ আগে আমাকে ইনফর্ম করা হয়েছে। সেখানে আমার পোস্টার ছিল। জামায়াত-বিএনপির পোস্টার ছিল। আপনি যে হটাইছেন, এর কারণ কি? কোনো পরিপত্র আছে? না ইচ্ছে করে?’
ইউএনও তখন বলেন, ‘জনগণ অভিযোগ দিয়েছে।’
জুয়েল বলেন, ‘জনগণ তো অনেক অভিযোগ দিয়েছে। সমগ্র গোদাগাড়ী থানাতে ভর্তি হয়ে আছে পোস্টার। তোলেন, সব তোলেন।’
এ সময় ইউএনও কিছু একটা বলতে চাইলে তাঁকে থামিয়ে দিয়ে জুয়েল বলেন, ‘শোনেন, আমি যেটা বলছি লিগ্যাল রাইট নিয়ে বলছি, সেটার সঠিক অ্যানসার করবেন। আপনি কেন ওই জায়গার পোস্টার তুলেছেন, আর অন্য জায়গার তুলছেন না কেন? আমি ঢাকাতে আছি, আমি আসতেছি।’
ইউএনও বলেন, ‘আচ্ছা ঠিক আছে।’
জুয়েল বলেন, ‘না, আপনি যেখান থেকে পোস্টার তুলেছেন, সেখানে আপনি সাবমিট করবেন পোস্টার।’
কথা না বাড়িয়ে ইউএনও বলেন, ‘ঠিক আছে।’
এ সময় আরও ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপি নেতা জুয়েল বলেন, ‘কালকে যেন আমরা ওখানে দেখতে পাই, পোস্টার যেখানে ছিল। ঠিক আছে মানে কি? অবশ্যই করবেন। না হলে যেটা করা দরকার সেটাই করব। আপনার এগেইনেস্টে যেই রকম স্টেপ নেওয়া দরকার, সেটাই আমি করব। বিশেষ করে আমরা করব। আমার নেতার ছবি তুলেছেন আপনি ওখান থেকে। জাস্ট রিমেম্বার ইট।’
জুয়েল বলতে থাকেন, ‘নরসিংদী বাড়ি দেখান আপনি, না? কোন দল থেকে আসছেন আপনি? কোন দল থেকে এসেছেন? কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেছেন আপনি? কালকে পোস্টার ভদ্রলোকের মতো লাগাবেন। ফাইজলামি! এহ, বিশাল ব্যাপার। উনি টিএনও হয়ে গোদাগাড়ীতে আসছেন।’
এ বিষয়ে ইউএনও ফয়সাল আহমেদ বলেন, ডাইংপাড়া মোড় চাররাস্তার কেন্দ্র। ব্যানার ফেস্টুন এ রকম পর্যায়ে ছিল যে, যান চলাচলে সমস্যা হয়। পাশাপাশি পৌরসভার সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছিল। স্থানীয় জনগণ অভিযোগ করেছে। সেজন্য পৌরসভা থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে সরানোর জন্য। দুই-তিনবার মৌখিকভাবে ও লিখিত আকারেও জানানো হয়েছিল। না সরানোর কারণে ব্যানার-ফেস্টুন সরিয়ে পৌরসভায় রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির একাধিক সভাতেও আলোচনা হয়েছিল। সেখান থেকে সকল রাজনৈতিক দলের পোস্টারই পৌরসভার পক্ষ থেকে সরানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভায় কোনো ব্যানার ফেস্টুন টানালে পৌরসভার অনুমতি নিতে হবে। পৌরকর দিয়ে লাগাতে হবে।
বিএনপি নেতা কে এম জুয়েলের হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি বলেছেন, আমি শুনেছি। এমন হয়ই।’
বিএনপি নেতা কে এম জুয়েল বলেন, ‘ইউএনওর কাছে জনগণ অভিযোগ করেছে, আর আমরা কি মানুষ না? আমার ছবি তুলে ফেলুক আপত্তি নাই। আমার নেতার ছবিতে হাত দিয়েছে কেন? তাঁর কাছে কি নির্বাচন কমিশন থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পোস্টার তুলে ফেলতে? তিন মাসের মধ্যে কি নির্বাচন? উনি জাস্টিস করতেন, আমার কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু গরু-ছাগলের মতো আচরণ করবেন, তা তো হয় না।’
বিএনপি নেতা জুয়েল আরও বলেন, ‘আমার এক লোককে ডেকে ইউএনও বলেছেন, যেখানে পোস্টার ছিল, দয়া করে আপনারা লাগিয়ে নেন। কিন্তু আমরা তো লাগাবো না। ইউএনওকেই লাগাতে হবে।’
গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম শাওয়াল বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পোস্টার নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। আমাদের না জানিয়ে এভাবে ফেস্টুন অপসারণ করে ঠিক করেননি ইউএনও। সেখানে আমাদের নেতার ছবি ছিল।’
খবরওয়ালা/এসআর