খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ আগস্ট ২০২৫
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নিখোঁজ এক কিশোরীকে পাওয়া গেলো ১০ দিন পর ঢাকার গাজীপুরে সাবেক স্বামীর বাড়িতে। মরা কালিগঙ্গা নদীতে ডুবে গেছে ভেবে স্বজনরা দিনরাত খোঁজাখুঁজি করে, এমনকি কবিরাজও নামানো হয় নদীতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জানা যায়, কিশোরীটি স্বেচ্ছায় চলে গেছে তার সাবেক স্বামীর কাছে ।
নিখোঁজ হওয়া কিশোরীর নাম সোহানা খাতুন। তার বাড়ি কুমারখালীর বাগুলাট ইউনিয়নের বাঁশগ্রাম কারিগরপাড়ায়। বাবা গোলাম মওলা ও মা শিরিনা খাতুন জানান, গত ১৯ জুলাই দুপুরে বাড়ির পাশের নদীতে কাপড় ধোয়া ও গোসল করতে গিয়ে আর ফেরেনি সোহানা। পরে নদীর পাশে পড়ে থাকা গামলা ও কাপড় দেখে ধারণা করা হয় সে পানিতে ডুবে গেছে।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা ও কুমারখালী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সন্ধ্যা থেকেই উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরদিন খুলনা থেকে ডুবুরি দল এসে টানা ১২ ঘণ্টা অভিযান চালিয়েও তাকে খুঁজে পায়নি। এরপর হতাশ পরিবার কবিরাজ ডেকে নদীতে ঝাড়ফুঁকের আয়োজন করে।
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। ঠিক এমন সময় ঘটনার ১০ দিন পর, ৩১ জুলাই রাতে হঠাৎ সোহানা তার মায়ের মোবাইলে কল করে জানায়, সে গাজীপুরে তার সাবেক স্বামীর কাছে নিরাপদে রয়েছে।
সোহানার বাবা গোলাম মওলা বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম মেয়ে নদীতে মারা গেছে। সবাইকে না জানিয়ে এমন করে চলে যাবে, সেটা ভাবিনি। সবাইকে কষ্ট দিয়েছি, ক্ষমা চাই।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহানা প্রায় দুই বছর আগে প্রেম করে আপন খালাতো ভাই কুতুব উদ্দিনকে বিয়ে করে পালিয়ে যায়। কিন্তু সংসারে বনিবনা না হওয়ায় তিন মাস আগে তালাক দিয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, ফের সাবেক স্বামীর কাছে যাওয়ার পরিকল্পনায় সে নিখোঁজ হওয়ার ‘নাটক’ করেছে।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আমিরুল ইসলাম বলেন, “প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে বলা হয়েছিল কিশোরী নদীতে নিখোঁজ। এখন জানানো হয়েছে সে ঢাকায় সাবেক স্বামীর কাছে রয়েছে। বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।”
এদিকে এই ঘটনা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভও তৈরি হয়েছে। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেশী বলেন, “নদীতে পাড়াপাড় খুঁড়ে মেয়েকে খুঁজেছি। অথচ সে আগেই চলে গেছে ঢাকায়! এটা স্রেফ নাটক।”
তবে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেয়েটি এখন নিরাপদে আছে এবং তারা তার দ্রুত ঘরে ফেরার অপেক্ষায়।
খবরওয়ালা/এমএজেড