খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ আগস্ট ২০২৫
সাংবাদিক ও বিশ্লেষক আনিস আলমগীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন—‘সরকার কি নিজেই নিজের রাজনৈতিক দল হয়ে উঠছে?’ তিনি দাবি করেছেন, সরকার বর্তমানে এমনভাবে কাজ করছে যেন তারা একটি রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত হয়েছে এবং ‘জুলাই চেতনা’র নামে দলীয় আচরণ করছে।
শনিবার (৩ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আগামীকাল ৫ আগস্ট ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সারাদেশ থেকে ছাত্র-জনতা আনতে সরকার ৮ জোড়া (বিশেষ) ট্রেন ভাড়া করেছে। এ খাতে ব্যয় হচ্ছে ৩০ লাখ টাকার বেশি, যা দিচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।’
আনিস আলমগীর স্মরণ করিয়ে দেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় সমাবেশে লোক আনতে ট্রেন ভাড়া করা হতো। বর্তমানে জামায়াতে ইসলামি ও বিএনপির ছাত্রসংগঠনগুলিও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের আনার জন্য ট্রেন ভাড়া করছে—কিন্তু সেটা রাজনৈতিক দল হিসেবে।
এ প্রেক্ষাপটে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘রাজনৈতিক দল এসব লোক ভাড়া, যানবাহন ভাড়া করতে পারে, সরকার কেন ভাড়া করে লোক আনবে!’
পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে ৫ আগস্ট উপলক্ষে। তিনি বলেন, ‘গার্মেন্টস শ্রমিকদের ওই সমাবেশে আনার জন্য মালিকদের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কিনা, তা পরিষ্কার নয়। তবে ঘটনা প্রবাহ দেখে অনুমান করা যায়—লোক জড়ো করাই উদ্দেশ্য।’
আনিস আলমগীর মনে করেন, ‘সরকার কি নিজেই নিজের রাজনৈতিক দল? তাহলে কেন এত জোর করে দেখানোর চেষ্টা করছে যে ‘জুলাই চেতনা এখনো চাঙ্গা’?’
তিনি আরও বলেন, ‘পুরো জুলাই মাসজুড়ে যে গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানগুলো সরকার করেছে, সেগুলোতে উপস্থিতি দেখেই কি বোঝা যায় না—এক বছরে জুলাই চেতনার কী হাল করেছে সরকার! সরকার সংশ্লিষ্টতায় এই কর্মসূচিগুলো প্রাণ পায় না। বেকার লোক ধরে এনে সমাবেশ দেখালে কি উদ্দেশ্য সফল হয়?’
পোস্টের শেষ দিকে তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ‘সরকারের উচিত জুলাই সনদ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য, সে ব্যাপারে মাথা ঘামানো। জোর করে এটিকে সংবিধানের অন্তর্ভুক্তি কিংবা ২০২৪-এর ৫ আগস্ট থেকে এই সনদকে কার্যকর দেখিয়ে ওই তারিখ থেকে নানা অনিয়ম-অন্যায়কে দায়মুক্তি দিয়ে দিলে ভবিষ্যতে তার পরিণতি কী হবে, সেটা নিয়ে ভাবা। এক মতাদর্শ দিয়ে সাময়িকভাবে সরকার চলতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র চলে না—এটাও মাথায় রাখা।’
আনিস আলমগীরের এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে সরকার ও ‘জুলাই চেতনা’র বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে।
খবরওয়ালা/এসআই