খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৫ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিদেশে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে—এমন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দেশের কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে না। ব্যাংক খাত সংস্কারসংক্রান্ত সাম্প্রতিক একটি অধ্যাদেশের বিভিন্ন বিধান নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ব্যাখ্যা প্রদান করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গতকাল এ বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংস্কার অধ্যাদেশ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তা জনসাধারণের মধ্যে নানা ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে অতীতে আর্থিক অনিয়ম, ঋণ কেলেঙ্কারি ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পুনরায় ব্যাংক খাতে ফিরে আসতে পারবেন কি না—এ বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরিফ হোসেন খান স্পষ্ট করে বলেন, এ ধরনের আশঙ্কার কোনো ভিত্তি নেই। বিদেশে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে—এমন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যাংকের মালিকানা বা ব্যবস্থাপনায় ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান কঠোর ও সুস্পষ্ট।
তিনি আরও জানান, অধ্যাদেশে সাবেক পরিচালক বা উদ্যোক্তাদের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে পুনরায় মালিকানা ফিরে পাওয়ার একটি বিধান রাখা হয়েছে। এই বিধান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার বকেয়া দায়ের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে। তবে এটি কোনো স্বয়ংক্রিয় বা নির্বিচার সুযোগ নয় এবং প্রত্যেকটি আবেদন পৃথকভাবে বিবেচনা করা হবে।
মুখপাত্র বলেন, এ ধরনের আবেদন কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় থাকবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিবিড় তদারকি নিশ্চিত করা হবে। আবেদনকারীর অতীত আর্থিক কার্যক্রম, অনিয়মের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। ফলে গুরুতর অনিয়ম বা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে পুনর্বহালের সুযোগ কার্যত বন্ধ থাকবে।
নিম্নে অধ্যাদেশের প্রাসঙ্গিক বিধানসমূহ সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মানি লন্ডারিং অভিযুক্তদের অবস্থান | পরিচালনা পর্ষদে ফেরার সুযোগ নেই |
| সাবেক পরিচালক বা উদ্যোক্তার সুযোগ | নির্দিষ্ট শর্তে পুনরায় মালিকানা দাবি করা যেতে পারে |
| পরিশোধের শর্ত | বকেয়া দায়ের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ |
| প্রক্রিয়ার ধরন | স্বয়ংক্রিয় নয়, কঠোর যাচাই-বাছাই সাপেক্ষ |
| তদারকি | নিয়ন্ত্রক সংস্থার আওতায় |
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে, সাম্প্রতিক অধ্যাদেশ ঘিরে জনমনে যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছিল, তা দূর করতেও এই স্পষ্টীকরণ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।