খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ আগস্ট ২০২৫
ডেনমার্কের প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগেও এবার দেখা গেল স্ক্যান্ডেনেভিয়ান ঘরোয়া ফুটবলের সেই চেনা ব্যতিক্রমী চিত্র। ম্যাচসেরার পুরস্কার হিসেবে এবার দেওয়া হলো… ৫৫ কেজি আলু!
গত রবিবার নরশেল্যান্ডের বিপক্ষে ৩–২ গোলের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে ডেনিশ ক্লাব সোনারইয়ুস্কা। ম্যাচে দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন ফরাসি সেন্টারব্যাক ম্যাক্সিম সউলাস, যিনি সারাক্ষণই ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। তার এই পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে ম্যাচশেষে হাতে তুলে দেওয়া হয় ছোট্ট এক ঠেলাগাড়ি ভর্তি আলু।
২৬ বছর বয়সী সউলাস নিজেই বিষয়টি জানিয়েছেন বার্তা সংস্থা এএফপিকে। জানিয়েছেন, ওজনে আলুগুলোর পরিমাণ প্রায় ৫৫ কেজি! তবে এত আলু একা খাওয়া তো সম্ভব নয়—সেজন্যই সউলাস জানিয়েছেন, ‘আমি আলুগুলো আমাদের ক্লাব ক্যাফেটেরিয়াতে দিয়ে দিয়েছি। সেখান থেকে কিছু আলু আবার চলে গেছে একটি ‘সুপ কিচেনে’ (যেখানে গরিবদের খাবার সরবরাহ করা হয়)।’
পুরস্কারের এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন নিয়ে সোনারইয়ুস্কার জনসংযোগ পরিচালক জ্যাকব র্যাভন বলেন, ‘পুরস্কার কী হবে, সেটা ঠিক করে ম্যাচের স্পনসর। সে (সউলাস) এতে মজা পেয়েছে এবং ঘটনাটা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।’
সউলাস ২০২০ সালে নেদারল্যান্ডসের জং পিএসভি ছেড়ে ডেনমার্কের ক্লাব আমাগেরে যোগ দেন। এরপর ২০২১ সালে তিনি সোনারইয়ুস্কায় পাড়ি জমান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, আয়োজকেরা খেলায় স্বকীয়তা ও স্থানীয়তার ছাপ রাখতে চেয়েই কখনো কখনো এমন অপ্রত্যাশিত পুরস্কার দিয়ে থাকেন, যার আর্থিক মূল্য নয় বরং তাৎপর্যটাই মুখ্য।
এই ব্যতিক্রমী ধারার শিকড় অবশ্য নরওয়ের ক্লাব ব্রাইন। স্ক্যান্ডেনেভিয়ান এই ক্লাব গত মার্চে ম্যাচসেরার পুরস্কার হিসেবে দিয়েছিল চার ট্রে ডিম, আর এপ্রিলে দিয়েছিল একটি ভেড়ার বাচ্চা! ম্যানচেস্টার সিটির তারকা আর্লিং হলান্ডের শৈশবের ক্লাব ব্রাইন এভাবে খেলার স্মৃতি অমলিন করে রাখতে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় থাকতে ব্যতিক্রমী পুরস্কারের এই ধারাটি শুরু করে।
ব্রাইন ক্লাবের এই উদ্যোগের আরেকটি দিক হলো, স্থানীয় কৃষিভিত্তিক সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো। কেননা ব্রাইনের অধিকাংশ মানুষই কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। তাই সেরা খেলোয়াড়কে কৃষিজাত পণ্য দিয়েই সম্মান জানায় তারা।
ডেনমার্কের ক্লাব সোনারইয়ুস্কা এবার যেন সেই পথেই হাঁটছে। ফুটবলের মাঠে এমন আলুপুরস্কার নিঃসন্দেহে দর্শকদের জন্যও বাড়তি বিনোদনের উপকরণ।
খবরওয়ালা/এসআই