খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় খাদ্য সহায়তা নিতে গিয়ে গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত ৭৪৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আহত হয়েছেন আরও প্রায় পাঁচ হাজার।
শনিবার (৫ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থনে পরিচালিত বিতর্কিত সহায়তা প্রকল্প গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর সহায়তা কেন্দ্রে খাবারের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়েই এই প্রাণহানি হয়েছে।
গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি হানি মাহমুদ বলেন, ‘এটা খুব সংক্ষিপ্ত একটি হিসাব। বাস্তবে নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।’ তিনি জানান, ক্ষুধার্ত পরিবারগুলো যখন বাঁচার শেষ চেষ্টা হিসেবে খাবার নিতে যাচ্ছিল, তখনই এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে।
হানি আরও বলেন, ‘অনেক মা নিজে না খেয়ে সন্তানদের জন্য খাবার তুলে রাখছেন। কেউ কেউ পুরো দিন অনাহারে কাটাচ্ছেন।’
জিএইচএফ প্রকল্পটি চালু হয় চলতি বছরের মে মাসের শেষ দিকে। তবে শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনী ও ইসরায়েলি সেনারা সহায়তা নিতে আসা ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি-কে কয়েকজন মার্কিন ঠিকাদার জানিয়েছেন, তারা নিজেরাই দেখেছেন—নিরাপত্তাকর্মীরা অস্ত্র নিয়ে ‘যেমন খুশি তেমন আচরণ করছে’।
তবে জিএইচএফ কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ‘এই তথ্য ভিত্তিহীন। আমরা নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন এই প্রকল্পের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, ‘জিএইচএফ-ই একমাত্র সংস্থা যা গাজায় কার্যকরভাবে খাদ্য পৌঁছে দিতে পেরেছে।’
জুনের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রকল্পে সরাসরি ৩০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেয়। তবে বিতরণকেন্দ্রগুলোতে সহিংসতা বাড়তেই থাকে। শনিবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসে জিএইচএফ-এর একটি সাইটে গ্রেনেড হামলায় দুই মার্কিন কর্মী আহত হয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই প্রকল্পকে ‘অমানবিক ও প্রাণঘাতী সামরিকীকৃত উদ্যোগ’ বলে আখ্যায়িত করেছে। সংস্থাটির দাবি, ‘এই প্রকল্প আন্তর্জাতিক উদ্বেগ প্রশমনের একটি মুখোশ মাত্র। এটি আসলে ইসরায়েলের গণহত্যার আরেকটি কৌশল।’
একাধিক মানবাধিকার সংগঠন ও ত্রাণ সংস্থা অবিলম্বে জিএইচএফ বন্ধের দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই প্রকল্পের আওতায় সহায়তা নিতে আসা ফিলিস্তিনিদের গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে সামরিকায়িত এলাকাগুলোতে, যেখান থেকে প্রতিদিনই গুলির মাধ্যমে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে।
গাজার বাসিন্দা মাজিদ আবু লাবান বলেন, ‘আমার বাচ্চারা তিন দিন কিছু খায়নি। তাই বাধ্য হয়ে সহায়তা কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেটসারিম করিডোরের দিকে রাতের বেলা রওনা দিই।’
তিনি জানান, ‘মানুষের ভিড় বাড়তেই ইসরায়েলি সেনারা আমাদের ওপর গুলি ছুড়তে শুরু করে। সবাই প্রাণ বাঁচাতে দিকবিদিক পালাতে থাকে।’
খবরওয়ালা/এন