খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে মাঘ ১৪৩২ | ৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান ইউনিভার্সিটির প্রখ্যাত অধ্যাপক ডোনাল্ড আর্ল কলিন্স বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক রীতিনীতি লঙ্ঘনের এক নতুন দিক নির্দেশ করছে। তার মতে, দেশটি কেবল বিশ্বমঞ্চে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছে না, বরং সামরিক হুমকি ও আগ্রাসনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা হলো: ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রতি প্রকাশ্য ও প্রাত্যক্ষিক দৃষ্টি আকর্ষণ, গাজার ইসরাইলি আগ্রাসনকে মৃদু সমর্থন, এবং মেক্সিকো, গ্রিনল্যান্ড ও ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি। এছাড়া, নাইজেরিয়ায় বোমা হামলা এবং ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের চেষ্টা, দেশটির আগ্রাসিত নীতির স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
অভ্যন্তরীণভাবেও পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। ২০২৬ সালের শুরু থেকে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তাদের গুলিতে তিনজন নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার কিথ পোর্টার জুনিয়র (৪৩), এবং মিনেসোটার রেনে নিকোল গুড ও অ্যালেক্স প্রেটি রয়েছেন। এসব হত্যাকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
অধ্যাপক কলিন্স মনে করান, অন্য কোনো দেশ যদি এ ধরনের রাষ্ট্রীয় দমন চালাত, পশ্চিমা বিশ্ব তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করত। তিনি ১৯৫০-এর দশকে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের নেতৃত্বে মন্টগোমারি বাস বর্জনের অহিংস আন্দোলনের উদাহরণ টেনে বলেন, বর্তমান অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন রোধে বিশ্বব্যাপী সম্মিলিত বয়কট ও বিনিয়োগ প্রত্যাহারের আন্দোলন জরুরি।
নিম্নলিখিত টেবিলে কিছু সম্ভাব্য নীতি ও উদ্যোগের প্রস্তাবনা দেখানো হলো:
| উদ্যোগের ধরন | উদাহরণ | লক্ষ্য |
|---|---|---|
| খেলার ও সাংস্কৃতিক বয়কট | ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ বর্জন, ২০২৮ লস এঞ্জেলেস অলিম্পিক | আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ |
| করপোরেট চাপ | আমাজন, গুগল, পালান্টির থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার | অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি |
| গণমাধ্যম ও প্রযুক্তি একচেটিয়াসহ প্রতিরোধ | বৃহৎ মিডিয়া হাউসের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও সচেতনতা | জনমত গঠন |
কলিন্স বলেন, “কেবল কণ্ঠস্বর উচ্চ করা যথেষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক সমাজকে মার্কিন সামরিকবাদ ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ, কিন্তু শক্তিশালী অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার মৌলিক পরিবর্তন ছাড়া পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
বিশ্ববাসীর কাছে তার আহ্বান স্পষ্ট: মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এখন সময়ের দাবি, এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও অর্থনৈতিক নীতির মাধ্যমে সুশৃঙ্খল প্রভাব তৈরি করা সম্ভব।