খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে হরিণ শিকারের ফাঁদ ও ট্রলারসহ চারজন শিকারি এবং নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরার অপরাধে তিনটি ট্রলার ও জালসহ তিন জেলেকে আটক করেছেন বন বিভাগের স্মার্ট টহল টিমের বনরক্ষীরা। আটককৃত মোট সাতজনকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে বাগেরহাট বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শরণখোলা রেঞ্জের স্মার্ট টহল টিমের বনরক্ষীরা নিয়মিত টহল পরিচালনার অংশ হিসেবে গত বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় শেলার চর টহল ফাঁড়ির আওতাধীন ছাপড়াখালীর বনে প্রবেশ করেন। সেখানে তল্লাশিকালে বনরক্ষীরা বন্য হরিণ শিকারের উদ্দেশ্যে পেতে রাখা বিপুল পরিমাণ সুতার ফাঁদ দেখতে পান।
বনরক্ষীরা তাৎক্ষণিকভাবে ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পেতে রাখা ফাঁদগুলো উদ্ধার করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে চারজন হরিণ শিকারিকে আটক করতে সক্ষম হন। একই সাথে ঘটনাস্থলের অদূরে একটি খাল থেকে শিকারিদের ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার জব্দ করা হয়।
আটককৃত চার শিকারির পরিচয় নিশ্চিত করেছে বন বিভাগ। তারা হলেন:
মো. সোলায়মান হাওলাদার (৪০)
রাসেল (৩৮)
নয়ন বিশ্বাস (১৭)
নুর আলম (১৮)
আটককৃত এই চার শিকারির সবার বাড়ি বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামে।
একই দিনে (বুধবার) বিকেল বেলা সুন্দরবনের সুপতি বনাঞ্চলের ডোরা এলাকার সাইড খালে দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয়। সুন্দরবনে সরকারিভাবে মাছ ধরা নিষিদ্ধ বা অভয়ারণ্য ঘোষিত সময়ে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে মাছ ধরার অপরাধে বনরক্ষীরা তিন জেলেকে হাতেনাতে আটক করেন। এই সময় জেলেদের ব্যবহৃত মাছ ধরার ট্রলার এবং অবৈধ জালও জব্দ করা হয়।
আটককৃত তিন জেলে হলেন:
হিরু (৪০)
আলমগীর (৩৫)
তামীম মৃধা (১৯)
এই তিন জেলের বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার ছোট পাথরঘাটা গ্রামে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী নিধন ও নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধভাবে মাছ আহরণের দায়ে আটককৃত হরিণ শিকারি ও জেলেদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বন আইন অনুযায়ী পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকল আসামিকে বাগেরহাট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
| অভিযানের বিবরণ | প্রথম অভিযান (হরিণ শিকার) | দ্বিতীয় অভিযান (অবৈধ মৎস্য আহরণ) |
| অভিযানের তারিখ ও সময় | ১০ জুন (বুধবার), সন্ধ্যা | ১০ জুন (বুধবার), বিকেল |
| নির্দিষ্ট এলাকা/স্থান | ছাপড়াখালীর বন, শেলার চর ফাঁড়ি | ডোরা এলাকার সাইড খাল, সুপতি বনাঞ্চল |
| আটককৃত ব্যক্তির সংখ্যা | ০৪ জন শিকারি | ০৩ জন জেলে |
| জব্দকৃত মালামাল | বন্য হরিণ শিকারের বিপুল পরিমাণ ফাঁদ ও ১টি ট্রলার | মাছ ধরার ট্রলার এবং জাল |
| আসামিদের বাসস্থান | উত্তর রাজাপুর, শরণখোলা, বাগেরহাট | ছোট পাথরঘাটা, পাথরঘাটা, বরগুনা |
| গৃহীত আইনি পদক্ষেপ | বন আইনে মামলা দায়েরপূর্বক বাগেরহাট আদালতে প্রেরণ | বন আইনে মামলা দায়েরপূর্বক বাগেরহাট আদালতে প্রেরণ |
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় বন বিভাগের স্মার্ট টহল টিমের পক্ষ থেকে এ ধরনের নিয়মিত ও বিশেষ নজরদারি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।