খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ আগস্ট ২০২৫
বিএনপির মাঠপর্যায়ের চাঁদাবাজি, প্রশাসনে জামাতের আধিপত্য এবং এনসিপির তদবিরভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে তিনি বলেন, “মিনিমাম ৯০ শতাংশ চাঁদাবাজি বিএনপি করে এবং এখনো করছে। তবে প্রশাসনের ভেতরে জামাতের অবস্থান সবচেয়ে শক্তিশালী। প্রশাসনে জামাত ও বিএনপি সমানতালে আছে, আর এনসিপি বাড়ছে উপরের স্তর থেকে—তদবিরের মাধ্যমে।”
তিনি বলেন, “বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে এখনো জামাত-বিএনপির লোকজন বসে আছে। বিএনপি যদি ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসে, তখন কি জামাতের কেউ থাকবে না? থাকবে না এনসিপির কেউ? তখন তারা সচিবালয়ে গিয়ে আর দাপট দেখাতে পারবে না।”
মাসুদ কামাল আরও বলেন, “জামাতের এখনও একটা খুঁটি আছে—তাদের সংগঠন আছে, ভিত্তি আছে। কিন্তু এনসিপির কী আছে? শুধু ড. ইউনুস? এখন ড. ইউনুস ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে এমন ‘অধিক শোকে পাথর’ হয়ে গেছেন, যেন সব শেষ হয়ে গেছে!”
টকশোতে তিনি অভিযোগ করেন, “আজ সাংবাদিকরাও সচিবালয়ে ঢুকতে পারে না। অথচ এনসিপির লোকজন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীরা ঢুকছে। তারা কী করে সেখানে? এসব যাতে প্রকাশ না পায়, সে কারণে অনেক সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল হয়েছে।”
ক্ষমতার বাইরের এই দলগুলোর আচরণ নিয়ে তিনি বলেন, “এনসিপি ও জামাত এখন বুঝে গেছে, ক্ষমতায় তারা আসতে পারবে না। এ দেশের মানুষ এখনও তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় পাঠানোর মতো জায়গায় আসেনি। তাই তারা এখন ‘ব্যাকডোর’ দিয়ে ক্ষমতার স্বাদ নিচ্ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “গতকাল টিএসসিতে যুদ্ধাপরাধীদের ছবি টাঙানোর সাহস তারা পায় কোথা থেকে? এই সাহস তারা পাচ্ছে ক্ষমতার অংশীদারিত্ব থেকেই। এখন বিএনপি যদি আবার ক্ষমতায় আসে, তখন কি এই সুবিধা আদৌ তারা নিতে পারবে? জামাতের লোকজন যে জায়গায় বসে আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পর্যন্ত—তারা কি থাকবে? থাকবেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসিকেও আপনি মার্চে আর দেখতে পাবেন না।”
মাসুদ কামালের মতে, বর্তমান প্রশাসনে যে আধিপত্য ও অনুপ্রবেশ চলছে, তা ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই বদলে যাবে। “এই যে এখন এনসিপি ও জামাত সচিবালয়ে ঢুকছে, সেটা আর তখন হবে না,”—বলেই মন্তব্য শেষ করেন তিনি।
খবরওয়ালা/টিএসএন