খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট ২০২৫
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সম্পদের একটি অংশ বিক্রি হচ্ছে।
এসব সম্পদ বিক্রি করে তাঁর দায়দেনা পরিশোধ করা হবে। সোমবার (১১ আগস্ট) ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফ–এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাইফুজ্জামানের মালিকানাধীন ছয়টি আবাসন কোম্পানি দেশটির প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় চলে গেছে, যা তাঁর যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সম্পদ পরিচালনা করত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান শুরু করার পর তাঁর যুক্তরাজ্যের বিপুল সম্পদের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। দেশটিতে তাঁর তিন শতাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১৭ কোটি পাউন্ড। অভিযোগ রয়েছে, ব্রিটেনে অর্থ পাচার করে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি।
বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) গত জুনে তাঁর বেশ কিছু সম্পদ জব্দ করে। এর মধ্যে রয়েছে নর্থ লন্ডনের সেন্ট জনস উড এলাকার ১ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড মূল্যের বিলাসবহুল বাড়ি এবং সেন্ট্রাল লন্ডনের ফিটসরোভিয়া এলাকার একাধিক ফ্ল্যাট।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যের সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান গ্র্যান্ট থর্নটনের প্রশাসকরা লন্ডন ও ইংল্যান্ডের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে থাকা সাইফুজ্জামানের কিছু আবাসিক ভবন বিক্রির দায়িত্ব পেয়েছেন। এসব বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ সিঙ্গাপুরের ডিবিএস ব্যাংক ও ব্রিটিশ আরব কমার্শিয়াল ব্যাংকসহ ঋণদাতাদের পাওনা পরিশোধে ব্যবহার হবে।
যুক্তরাজ্যের কোম্পানিজ হাউসে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকও সাইফুজ্জামানের কাছ থেকে প্রায় ৩৫ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ ফেরত চাইছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দেশ–বিদেশে থাকা অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে। সাইফুজ্জামান ছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান এফ রহমান ও ভাতিজা আহমেদ শাহরিয়ার রহমানের লন্ডনের সম্পদও এনসিএ জব্দ করেছে।
খবরওয়ালা/আশ