খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ আগস্ট ২০২৫
সোমবার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির (এএ) এক সশস্ত্র সদস্য বাংলাদেশে প্রবেশের পর পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর আগে রবিবার রাত ১০টার দিকে বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্তে মিয়ানমারের দিক থেকে দীর্ঘক্ষণ গুলিবর্ষণ হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এএ এবং মিয়ানমারের জান্তা সমর্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশের দিকে কোনো হতাহতের খবর না মিললেও ভারী অস্ত্রের শব্দ ঘুমধুম, চাকধলা ও আশেপাশের এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, মিয়ানমারের লালদ্বীপ এলাকায় নাফ নদীর কাছে প্রায় ডজনখানেক সশস্ত্র এএ সদস্য আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। তাদের অবস্থান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ এর দমদুমিয়া সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পূর্বে চিহ্নিত হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী দক্ষিণ মংডু টাউনশিপে বিমান হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে জেনে তারা সীমান্তের দিকে পালিয়ে আসে।
বিজিবি জানিয়েছে, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, “আমরা সীমান্তে কড়া নজর রাখছি এবং যেকোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বদ্ধপরিকর।”
সোমবার সকাল ৯টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের পর বিজিবি ব্যাটালিয়ন-৬৪ এএ-র এক সশস্ত্র সদস্য জীবন তনচঙ্গ্যা (২১) কে আটক করে। একে-৪৭ রাইফেল, ৫২ রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিনসহ আত্মসমর্পণ করা জীবন জানান, নিরাপত্তার হুমকির কারণে তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। পরে আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
২৫ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত সীমান্ত পিলার ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৮ ও ৪৯ এর কাছে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলির শব্দ শোনা যায়। স্থানীয়রা জানান, এএ ও জান্তা-সমর্থিত গোষ্ঠীর সংঘর্ষ চকধলা, ঘুমধুম, দোছড়ি ও আশপাশের গ্রামগুলোর জীবনযাত্রা ব্যাহত করেছে। রবিবার রাতে আবারও গুলির শব্দ শোনা গেছে, যা এবার সীমান্ত পিলার ৩৪ ও ৩৫ এর কাছে শূন্যরেখা থেকে ৩০০-৩৩০ মিটার দূরে ঘটে।
বিজিবি ব্যাটালিয়ন-৩৪ এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম খায়রুল আলম জানান, বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “আমরা বিজিবির সাথে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং সীমান্ত বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন পর আবারও গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে, তবে মিয়ানমারের ভেতরে আসল পরিস্থিতি বোঝা কঠিন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে মিয়ানমারের জান্তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুরুর পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এএ রাখাইন অংশের ২৭১ কিলোমিটার সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ দাবি করে। এর আগে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘুমধুম সীমান্তে এএ ও জান্তা বাহিনীর মধ্যে তীব্র বন্দুকযুদ্ধ হয়েছিল।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই থেকে এএ জনবল সংকট, অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও নিম্ন মনোবলে ভুগছে। মাদক চোরাচালান, লুটপাট ভাগাভাগি ও লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতবিরোধে অনেকে দল ত্যাগ করেছে। ঘাটতি পূরণে এএ ছয়টি অন্যান্য জাতিগত গোষ্ঠী থেকে যোদ্ধা নিয়োগ করলেও ভাষাগত বাধা, ভূখণ্ড সম্পর্কে দুর্বল জ্ঞান ও যুদ্ধে অনীহা কার্যকারিতা কমিয়ে দিয়েছে এবং সমন্বয় সমস্যা তৈরি করেছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন