খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 31শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৫ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যেমন ’১৮ এবং ’৭৩ একতরফা নির্বাচন করে নিয়ে গেছে এবং সেটা আনফেয়ারলি করেছে। এবারের নির্বাচনও ফেয়ার, সুষ্ঠু তবে একতরফা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কারণ, বিএনপির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তাকে সিরিয়াসলি প্রতিটা আসনে কমপ্লিট করার মতো কোনো প্রার্থী নাই। সেখানে সব দল যদি একত্রিত হয়ে যায়, তারপরও বিএনপির অ্যাগেনইস্টে ১০০ প্রার্থী দেওয়াও সিরিয়াসলি কঠিন হবে।’
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বিএনপি নিজেই। ১৩০-১৩৫ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আছে এবং তারা একে অপরের বিরুদ্ধে খুবই স্ট্রং।’
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করে ফুয়াদ বলেন, ‘ইতিমধ্যে যেগুলোতে একমত হয়েছি, সেগুলোর জন্য কেন ২০৩১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করব? আমরা যদি সিদ্ধান্ত নেই নারীদের আসন ৫০ থেকে ১০০ করব, সেটা ২০২৬-এ কেন হবে না? … কেউ দুই টার্মের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না—এটার জন্যও অপেক্ষা করব কেন? এটাতো এখনই দরকার।’
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, জামায়াত ও চরমোনাই পিআর পদ্ধতিতে অনড় থাকলে এবং এনসিপি সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতিতে কঠোর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি একতরফার দিকে চলে যাবে। ‘তখন সরকারের সামনে এবং বিএনপির সামনে অপশন থাকবে যে, যুগপৎ আন্দোলনে থাকা যাদের আসন দেওয়া-নেওয়া করছে তারা বিরোধী দলে চলে যাবে। কিন্তু সেটা দেশের বা বিএনপির জন্য সম্মানজনক হবে কিনা?’—প্রশ্ন রাখেন ফুয়াদ।
ড. ইউনূসের সম্ভাব্য পদত্যাগ প্রসঙ্গে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের সব শক্তি যেহেতু এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, এরকম নির্বাচনের দায় আমরা নেব না। তখন এমনও হতে পারে, প্রফেসর ইউনূস যিনি এর আগে কয়েকবার দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, এবার হয়তো দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। নির্বাচনকালীন একটি সরকার গঠন করে তিনি বিদায় নেবেন।’
খবরওয়ালা/এসআই