খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৫
কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না চালের বাজার। প্রায় দেড় মাস ধরে উচ্চমূল্যে স্থির রয়েছে এ নিত্যপণ্য। টিসিবির হিসাবে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে চালের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি।
মোটা চাল এখন কেজিপ্রতি ৬০ টাকার বেশি, মাঝারি মানের চাল ৬৫ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। সরু চাল ৮০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। কিছু ব্র্যান্ডের চালের দাম ছুঁয়েছে প্রায় ১০০ টাকা।
একজন ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘আয় করি মনে করেন, ১০ হাজার টাকা, খরচ আরও বেশি। এই টাকা পাব কোথায়?’
অন্যদিকে, খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ মিল মালিকদের বিরুদ্ধে। এক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, ‘মিল মালিকরা বলছে যে ধান নেই। কিন্তু ধান তো আছে। যখন দাম বাড়ে তখন তারা পণ্যটা বাজারে ছাড়ে। ক্রাইসিস দেখে প্রতি বস্তা চালে ২০০ টাকা বেশি নিচ্ছে।’
এদিকে, ভারত থেকে আমদানি করা চাল শুল্ক জটিলতায় হিলি স্থলবন্দরে আটকে আছে। কাস্টমস সার্ভারে শুল্ক হালনাগাদ না হওয়ায় গত দুই দিন ধরে চাল খালাসে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
চাল আমদানিকারক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘শুল্ক কমানোর বিষয়টা যে সার্ভারে দিবে, এটা না দেওয়ার কারণে পণ্য খালাস হচ্ছে না। এ কারণে পণ্যগুলো বাজারজাত করা যাচ্ছে না।’
খাদ্য সচিব মো. মাসুদুল হাসান জানান, দেশে চালের কোনো সংকট নেই। তবে বৈরী আবহাওয়া ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সাপ্লাই চেইনে ডিসরাপশনের কারণে দামটা বাড়ে। এখানে আমাদের মিলার ও ব্যবসায়ীদেরও একটা যোগসাজশ থাকে। এটা মোকাবিলা করার জন্য ৫৫ লাখ পরিবারকে পরবর্তী ৬ মাসের জন্য ১৫ টাকা কেজি দরে আমরা চাল দেবো।’
তিনি আরও জানান, গত ১০ আগস্ট থেকে টিসিবির মাধ্যমে খোলা বাজারে চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যেখানে ৫৫ লাখ পরিবার ছয় মাস ধরে ১৫ টাকা কেজিদরে চাল কিনতে পারবে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি গুদামে ২০ লাখ টন চালের মজুদ রয়েছে। এর একটি বড় অংশ সরবরাহ করা হবে ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায়।
খবরওয়ালা/এসআই