খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৭ আগস্ট ২০২৫
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট একযোগে দেশের ৬৩টি জেলা বোমা হামলায় প্রকম্পিত হয়েছিল। নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতেই জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এ হামলা চালায়। এতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। ওই ঘটনায় সারা দেশে প্রায় ১৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়, যার কয়েকটি এখনো সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে গড়িয়েছে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, সেদিন দেশের সুপ্রিম কোর্ট, জেলা আদালত, বিমানবন্দর, মার্কিন দূতাবাস, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের দপ্তর, প্রেস ক্লাবসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এতে দুই জন নিহত এবং দুই শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। দেশের মোট ৪৫০ স্থানে পাঁচ শতাধিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় জেএমবি সদস্যরা। এতে সারাদেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার মধ্যে শতাধিক মামলা অধস্তন আদালতে বিচার শেষে হাইকোর্টে গড়ায় এবং পরবর্তীতে কিছু মামলা আপিল বিভাগেও ওঠে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শিশির মনির জানান, বহু মামলার শুনানি ও রায় হাইকোর্টে হয়েছে। তবে রায় হওয়া কিছু মামলা এখনো আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া ১৫৯টি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন ২৪২ জন। অভিযোগপত্রে আসামি করা হয় ১ হাজার ১২১ জনকে। অধস্তন আদালতে বিচার শেষে ৩৫০ জনের বেশি আসামি বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত হন। এর মধ্যে জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমানসহ ২৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮ জনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩৪৯ জনকে অব্যাহতি ও ৩৫৮ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে সিনিয়র সহকারী জজ সোহেল আহম্মেদ ও জগন্নাথ পাঁড়ে হত্যাকাণ্ডের মামলায়ও জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, বাংলা ভাইসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ আদালত সেই রায় বহাল রাখায় তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ফলে তারা ১৭ আগস্ট সিরিজ হামলার মামলা থেকে বাদ পড়েন।
সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানিয়েছে, সিরিজ বোমা হামলার শতাধিক মামলার রায় অধস্তন আদালতে হয়েছে। এর মধ্যে কিছু মামলা এখনো হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। মামলার পক্ষগুলোর উদ্যোগের ভিত্তিতেই পর্যায়ক্রমে এসব মামলার নিষ্পত্তি হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন