খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক বীমা বাজার ২০২৫ সালে প্রায় ১.৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নন-লাইফ (Non-Life) বা অপ্রাণীমূলক বীমার প্রিমিয়াম বৃদ্ধির হার আনুমানিক ২% থেকে ৩% হবে। এই বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে দেখা যাচ্ছে, বাণিজ্যিক লাইনের প্রাইসিং শর্তাবলী ধীরে ধীরে সহজ হচ্ছে, তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু-সংক্রান্ত ঝুঁকি এখনও বীমা খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থেকে যাচ্ছে।
বর্তমানে গ্লোবাল কম্পোজিট রেট প্রায় ৪% হ্রাস পেয়েছে। তবে প্রপার্টি ইন্স্যুরেন্সের রেট পূর্ববর্তী ক্বার্টারের তুলনায় প্রায় ৮% কমেছে। তবুও প্রাকৃতিক দুর্যোগে অতিরিক্ত সংবেদনশীল প্রপার্টি পোর্টফোলিওতে রেট বৃদ্ধির প্রয়োজন পড়ছে। এই ক্ষেত্রে প্রায় মধ্য-একক থেকে নিম্ন-দ্বিগুণ ডিজিটের বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতির কারণে।
বীমা সংস্থাগুলি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং অটোমেশন ব্যবহারে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বীমা সংস্থার ৮০%-এর বেশি এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার বিশেষভাবে আন্ডাররাইটিং, প্রাইসিং এবং ক্লেইমস ম্যানেজমেন্টে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাণিজ্যিক বীমা ক্ষেত্রের বৃদ্ধিতে SMEs এবং মধ্যবাজারের প্রতিষ্ঠানগুলির অবদান গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো নতুন ব্যবসার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি উৎস হিসেবে কাজ করছে। এই বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বীমা সংস্থাগুলিকে তাদের প্রোডাক্ট এবং পরিষেবা বিস্তৃত করতে প্ররোচিত করছে।
২০২৫ সালে গ্লোবাল পুনর্বীমা পুঁজির পরিমাণ রেকর্ডসৃজন করে ৭৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫% (১১৫ বিলিয়ন ডলার) আসে বিকল্প পুঁজি, যেমন ইনস্যুরেন্স-লিঙ্কড সিকিউরিটিজ। এছাড়াও ২০২৫ সালে ক্যাটাসট্রফ বন্ড ইস্যু রেকর্ড ২৫.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যার মধ্যে চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি ইস্যু হয়েছে।
নিচের সারণিতে পুনর্বীমা খাতের মূল তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো—
| সূচক | পরিমাণ/হার |
|---|---|
| গ্লোবাল পুনর্বীমা পুঁজি | ৭৬০ বিলিয়ন ডলার |
| বিকল্প পুঁজি (Alternative Capital) | ১১৫ বিলিয়ন ডলার (১৫%) |
| ক্যাটাসট্রফ বন্ড ইস্যু | ২৫.৬ বিলিয়ন ডলার |
| চতুর্থ ত্রৈমাসিক ইস্যু | ৭ বিলিয়ন ডলার + |
২০২৬ সালের জন্য পুনর্বীমা চুক্তি নবায়ন প্রক্রিয়ায়, যদি কোনো বড় ক্ষতির ঘটনা না ঘটে, তবে দ্বিগুণ-সংখ্যার রেট হ্রাস দেখা যেতে পারে। তবে জলবায়ু-সংক্রান্ত ঝুঁকি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনও বীমা ও পুনর্বীমা খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থেকে যাচ্ছে।
বিশ্ব বাণিজ্যিক বীমা বাজার ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণের পথে রয়েছে। প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ, SMEs এবং মধ্যবাজারের ভূমিকা, এবং পুনর্বীমা খাতের শক্তিশালী পুঁজি এই বৃদ্ধি সমর্থন করছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু ঝুঁকি এবং একীভূতকরণ চ্যালেঞ্জ দীর্ঘমেয়াদে বীমা সংস্থাগুলির জন্য সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা জারি রাখবে। এর ফলে বীমা সংস্থাগুলিকে আরও কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে।