খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে চৈত্র ১৪৩১ | ৫ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে শতাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে। শনিবার (৫ এপ্রিল) সকালে ওই সংঘর্ষে উভয়পক্ষ একে অপরের দিকে বালতিতে করে হাতবোমা ছুড়ে মারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ঘটনাটি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। যদিও বিস্ফোরণের ভয়াবহতার পরেও এখনো পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এত বিপুল পরিমাণ হাতবোমা তারা কোথা থেকে পেলো?
শরীয়তপুরের জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) নজরুল ইসলাম বলেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে বিলাশপুর এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মূলত ঈদে বাড়িতে আসার পর লোকজন দুপক্ষে বিভক্ত হয়ে এমন হামলার ঘটনা ঘটায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
সংঘর্ষে জড়ানো ব্যক্তিরা এত ককটেল কীভাবে পেলেন জানতে চাইলে এসপি বলেন, ‘ওই এলাকার মানুষের দেশীয় নানা অস্ত্র ও বিস্ফোরক বানাতে পারেন ও বানানোর প্রবণতা রয়েছে। এই বিস্ফোরক তৈরি জন্য যে ধরনের উপাদান প্রয়োজন তারা কীভাবে তা হাতে পান সে বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযান চালিয়ে সেসব উদ্ধার করা হবে।’
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কুদ্দুসের সঙ্গে জলিলের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
দুই পক্ষ কিছুদিন পরপর হাতবোমাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। একাধিক সংঘর্ষে ইতিপূর্বে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় কুদ্দুস ও জলিল হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে যৌথবাহিনী অভিযানে ঢাকা থেকে কুদ্দুস ও জলিল গ্রেপ্তার হন।
কয়েক মাস জেল খেটে কুদ্দুস জামিনে বেরিয়ে এলেও জলিল এখনো জেলহাজতে রয়েছে। কুদ্দুস জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ফের এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে উভয়ের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
খবরওয়ালা/এমবি