খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে আবদুস সালেক চৌধুরী বীরউত্তমের নাম এক গৌরবময় অধ্যায়। অকুতোভয় সাহসিকতা, নেতৃত্বগুণ এবং দেশপ্রেমের জন্য তিনি ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
১৯৪৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার দোহার উপজেলার হাতুরপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আব্দুর রহিম চৌধুরী ও মাতা সায়মা খানম। আট ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হলে তিনি ঢাকার সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২২ এপ্রিল তিনি পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। প্রথমদিকে বীর উত্তম খালেদ মোশাররফের অধীনে কুমিল্লা অঞ্চলে যুদ্ধ করেন। পরে সেক্টর গঠিত হলে তিনি ২ নম্বর সেক্টরের সালদা নদী সাব-সেক্টরের অধিনায়ক নিযুক্ত হন।
মুক্তিযুদ্ধে অবদান
১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সালদা নদী রেলস্টেশনের কাছে নয়নপুর ও আশপাশের এলাকায় পাকিস্তানি সেনারা শক্ত প্রতিরক্ষা অবস্থান তৈরি করে। এই সময় মুক্তিযোদ্ধাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণের নেতৃত্ব দেন আবদুস সালেক চৌধুরী।
রাতভর চলা ভয়াবহ যুদ্ধে তাঁর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা শত্রুর কাছাকাছি অবস্থান নেন। নির্ধারিত সময়ে আক্রমণের সংকেত দেওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধারা ঝাঁপিয়ে পড়েন। গোলাবারুদ শেষ হয়ে গেলেও সালেক চৌধুরী সাহস হারাননি; বরং সাহসিকতার সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্ব দিতে থাকেন।
ভোররাতে ভারতীয় সেনাদের আর্টিলারি সমর্থন পেয়ে তিনি সহযোদ্ধা গাফফারকে নিয়ে শত্রুপক্ষের পেছন দিক থেকে আক্রমণ চালান। প্রবল গোলাগুলিতে পাকিস্তানি সেনারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। যদিও তারা আত্মসমর্পণ করেনি, মুক্তিযোদ্ধাদের এ আক্রমণ ছিল শত্রুর বিরুদ্ধে প্রথম সরাসরি ও সাফল্যমণ্ডিত অভিযান। এই যুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতা প্রদর্শন করে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গৌরবময় স্থান করে নেন।
তাঁর সম্মুখসমরের বীরত্ব ‘মেজর খালেদ’স ওয়ার’ প্রামাণ্যচিত্রেও চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীরউত্তম খেতাবে ভূষিত করে।
১৯৭২ সালের ১৯ নভেম্বর, মাত্র ২৬ বছর বয়সে এক দুর্ঘটনায় পরম সাহসী এই বীর সেনানীর জীবনাবসান ঘটে।
জাতির স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গকারী আবদুস সালেক চৌধুরী বীরউত্তম চিরকালই বাংলার মানুষের হৃদয়ে বীরত্বের প্রতীক হয়ে থাকবেন।
লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, খবরওয়ালা