খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৭ আগস্ট ২০২৫
জাতীয় শোক দিবসে বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাধা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের হয়রানি এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ।
শনিবার এক বিবৃতিতে পরিষদ জানায়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে ইতিহাসে ঘৃণ্যতম নৃশংসতার নজির সৃষ্টি হয়। দিনটি জাতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করে আসছে। কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্ট দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গঠিত ‘অবৈধ ইউনুস সরকার’ এই জাতীয় শোক দিবসের মর্যাদা নষ্ট করতে এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণে নানামুখী দমননীতি চালাচ্ছে।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, অবৈধ সরকারের আমলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি বাতিল, ঐতিহাসিক স্থাপনা ভাঙচুর এবং বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতার স্মারক ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ড চলছে। একই সঙ্গে প্রগতিশীল চিন্তাবিদ, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের হত্যা, গুম, গ্রেপ্তার ও হয়রানি বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। নারী, শিশু ও সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা, মামলাবাণিজ্য, বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের ঘটনাও বেড়ে গেছে।
পরিষদ জানায়, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি ১৫ আগস্ট জাতির শোকের দিনে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় মব সন্ত্রাস চালানো হয়েছে। শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শিল্পী-সাংবাদিকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশের কারণেও হয়রানি করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ সাত দফা দাবি জানিয়েছে—
১. জাতীয় শোক দিবস পালনে বাধা, ইতিহাস বিকৃতি ও সাংস্কৃতিক দমনের জন্য অবৈধ ইউনুস সরকারকে দায়ী করা।
২. দমন-পীড়ন বন্ধ করে রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি ও জনগণকে ন্যায়বিচার দেওয়া।
৩. গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করা।
৪. ১৫ আগস্টসহ সব গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা না দেওয়া।
৫. মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ জোরদার করা।
৬. মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী শাসনামল থেকে মুক্তি পেতে দেশপ্রেমিক জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান।
৭. সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিপীড়ন বন্ধ।
বিবৃতিতে পরিষদ ঘোষণা দেয়— স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মশাল নিভতে দেওয়া হবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত এবং শান্তি, মানবাধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।