এবিএম জাকিরুল হক টিটন
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ আগস্ট ২০২৫
“পাটা ব্যাচেয়া কিনিয়া দেইম তোক ফুল তোলা শাড়ি”
ভাওয়াইয়া গানের মাটির টান ও স্নিগ্ধ সুরে যে নাম চিরস্মরণীয় হয়ে আছে তিনি কছিম উদ্দিন।
কছিম উদ্দিন ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক এবং উত্তরবঙ্গের ভাওয়াইয়া গানের অন্যতম প্রধান শিল্পী। শিল্পী আব্বাস উদ্দিনের পর তাঁকেই ভাওয়াইয়া গানের সবচেয়ে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং তিনি ‘ভাওয়াইয়া গানের যুবরাজ’ উপাধিতে ভূষিত হন।
জন্ম ও শৈশব
১৯৩৪ সালের ১২ মার্চ লালমনিরহাটের তিস্তা রেলওয়ে স্টেশনের কাছে রতিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতা ছমির উদ্দিন ও মাতা কছিরুন্নেছার সন্তান কছিম উদ্দিন ছোটবেলা থেকেই লোকগানের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও সংগীত
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ক্যাম্পে ভাওয়াইয়া গান গেয়ে মুক্তিকামী মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দীপ্ত করেছিলেন এই শিল্পী। তাঁর কণ্ঠের ভাওয়াইয়া মুক্তির গান হয়ে উঠেছিল সংগ্রামী জনতার অনুপ্রেরণা।
শিল্পযাত্রা
বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে ভাওয়াইয়া গানের পাশাপাশি পালাগান পরিবেশন করে তিনি পেয়েছিলেন ব্যাপক খ্যাতি। জীবদ্দশায় তিনি প্রায় দুই সহস্রাধিক গান রচনা ও পরিবেশন করেন। তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছ-
ওকি বাপরে বাপ মুক্তিফৌজ কি যুদ্ধ করে বাপরে
নয়া ডারাতে মাছ উজাইছে, হেঙ্গা পাতেয়া দে
বাপের বাড়ি মোর ধরলার ওপারে
বৈদেশিয়া পিরিত রে, ভাঙিলে পিরিতি আর না লাগিবে জোরা রে
কইন্যা ভাবনা করিস কি, পাটা বেচিয়া কিনিয়া দেইম তোক ফুল তোলা শাড়ি
প্রয়াণ ও স্মরণ
১৯৯২ সালের ২২ আগস্ট তিনি পরলোকগমন করেন। তবে আজও তাঁর ভাওয়াইয়া গান উত্তরাঞ্চলের মানুষের অন্তরে বেঁচে আছে। প্রতি বছর ২২ আগস্ট বাংলাদেশ বেতার রংপুর কেন্দ্র এবং চিলমারী রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে তাঁকে স্মরণ করে।
শ্রদ্ধাঞ্জলি ভাওয়াইয়ার যুবরাজ কছিম উদ্দিনকে।
লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, খবরওয়ালা
খবরওয়ালা/এমইউ