খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫
এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্স (একিউএলআই)-এর ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত আয়ুর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হলো বায়ুদূষণ। এই দূষণের কারণে মানুষের গড় আয়ু সাড়ে পাঁচ বছর কমে যাচ্ছে।
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি পলিসি ইনস্টিটিউট (ইপিআইসি) দ্বারা প্রকাশিত এই প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশ। বায়ুদূষণের পাশাপাশি ধূমপান মানুষের গড় আয়ু ২ বছর এবং শিশু ও মায়ের অপুষ্টি ১.৪ বছর কমিয়ে দিচ্ছে।
একিউএলআই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ১৬ কোটি ৬৮ লাখ মানুষের সবাই এমন এলাকায় বাস করে যেখানে বস্তুকণা (পিএম ২.৫) দূষণের মাত্রা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় মানদণ্ডের চেয়ে বেশি। এমনকি সবচেয়ে কম দূষিত লালমনিরহাট শহরেও এই দূষণের হার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিকার চেয়ে ৭ গুণ বেশি।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বাতাসে পিএম ২.৫ কণার ঘনত্ব ৬৬.২ শতাংশ বেড়েছে, যার ফলে মানুষের আয়ু আরও ২.৪ বছর কমেছে। যদি ঢাকা ও চট্টগ্রামে ডব্লিউএইচওর নির্দেশিকা অনুযায়ী পিএম ২.৫ কণার ঘনত্ব কমানো যেত, তবে মানুষের আয়ু ৬.২ বছর বৃদ্ধি পেত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডব্লিউএইচও-এর মান অনুযায়ী বায়ু ভালো থাকলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলার মানুষের আয়ু যথাক্রমে ৬.৯ বছর ও ৬.২ বছর বৃদ্ধি পেত। বাংলাদেশের জাতীয় মানদণ্ড অনুযায়ী দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মানুষের আয়ু যথাক্রমে ৪.১ ও ৩.৩ বছর বাড়ত।
প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার বায়ুদূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই অঞ্চলে বায়ুদূষণ ২.৮ শতাংশ বেড়েছে, যার কারণে মানুষের গড় আয়ু ৩ বছর কমছে।
একিউএলআই-এর পরিচালক তনুশ্রী গাঙ্গুলি বলেছেন, বায়ুদূষণ এখনো বিশ্বের মানুষের জীবনকাল কমার প্রধান কারণ। জীবাশ্ম জ্বালানির উৎসের দিকে মনোযোগ দিলে স্থানীয় বায়ুর মান উন্নত হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন