খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২৬
সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স প্রবাহে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক চিত্র দেখা গেলেও কয়েকটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে ভিন্ন বাস্তবতা সামনে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে দেশে মোট ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। তবে একই সময়ে দেশের সাতটি ব্যাংকের মাধ্যমে এক ডলারও প্রবাস আয় দেশে আসেনি, যা ব্যাংকিং খাত ও প্রবাসী আয়ের ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, রেমিট্যান্স শূন্য ব্যাংকের তালিকায় রয়েছে একটি বিশেষায়িত ব্যাংক, দুটি বেসরকারি ব্যাংক এবং চারটি বিদেশি ব্যাংক। বিশেষায়িত খাতের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), বেসরকারি খাতের পদ্মা ব্যাংক পিএলসি ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ডিসেম্বর মাসে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। একইভাবে বিদেশি ব্যাংক হিসেবে আল ফারাহ ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমেও প্রবাসী আয় দেশে প্রবেশ করেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ব্যাংকের সীমিত প্রবাসী নেটওয়ার্ক, কম শাখা, ডিজিটাল রেমিট্যান্স সেবার ঘাটতি এবং গ্রাহক আস্থার অভাব এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক সেবা না থাকা এবং বড় ব্যাংকগুলোর আধিপত্যও একটি কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, সামগ্রিক চিত্রে দেখা যায়, ডিসেম্বর মাসে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেশে এসেছে ৫৭ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৫ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে সর্বাধিক ২২৯ কোটি ৩৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে মাত্র ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার।
নিচের টেবিলে ডিসেম্বর মাসে ব্যাংক শ্রেণিভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহ তুলে ধরা হলো—
| ব্যাংকের ধরন | রেমিট্যান্সের পরিমাণ (মার্কিন ডলার) |
|---|---|
| রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক | ৫৭ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার |
| বিশেষায়িত ব্যাংক | ৩৫ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার |
| বেসরকারি ব্যাংক | ২২৯ কোটি ৩৯ লাখ ৪০ হাজার |
| বিদেশি ব্যাংক | ৬৮ লাখ ৭০ হাজার |
| মোট | ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার |
এদিকে, দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষাপটে রেমিট্যান্স প্রবাহে বাংলাদেশ একটি নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে কোনো একক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রাপ্তির রেকর্ড। এই অর্জন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয় পরিশোধ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে সাতটি ব্যাংকে রেমিট্যান্স শূন্য থাকার ঘটনা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনায় সমতা ও দক্ষতা বাড়াতে এখনো কাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রবাসীবান্ধব সেবা সম্প্রসারণ, ডিজিটাল লেনদেন সহজীকরণ এবং ব্যাংকগুলোর মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এই বৈষম্য কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।