খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বন্যহাতির দেখা মিলেছে। খাদ্যের খোঁজে গারো পাহাড় থেকে হাতির দল লোকালয়ে নেমে এসেছে। এই দৃশ্য দেখতে স্থানীয় মানুষ এবং কৌতূহলী জনতার ভিড় বাড়ছে।
বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন সাধারণ মানুষকে হাতির কাছাকাছি না যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছে, কারণ এটি বিপজ্জনক হতে পারে।
স্থানীয় সূত্র মতে, রবিবার (২৪ আগস্ট) রাত থেকে নলকুড়া ইউনিয়নের সন্ধ্যাকুড়া, হলদীগ্রাম, গুমড়া, রাংটিয়া এবং কাংশা ইউনিয়নের ছোট-বড় গজনী ও তাওয়াকুচা এলাকায় ৪৫ থেকে ৫৫টি হাতির একটি দল অবস্থান করছে। দিনের বেলায় পাহাড়ের টিলায় ঘোরাফেরা করলেও সন্ধ্যা হলেই তারা লোকালয়ে নেমে আসে। গ্রামবাসীরা মশাল জ্বালিয়ে এবং চিৎকার করে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু সব সময় তা সফল হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে সন্ধ্যাকুড়া এলাকায় দেখা গেছে, হাতির দল গোলাপ বাগান, আকাশমণি গাছের বাগান এবং বিভিন্ন সবজি ক্ষেতে অবস্থান করছে, যার ফলে ধান ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের কৃষক দেলোয়ার বলেন, গত রাতে হাতি তার ২৫ শতাংশ ধানক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছে। তিনি বলেন, হাতির অত্যাচার সহ্য করা কঠিন। আরেক কৃষক সাব্বির জানান, তার বরবটি ও বেগুনের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে এবং এই ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
ময়মনসিংহ বন বিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, হাতির খাদ্যের জন্য পাহাড়ে সুফল বাগান তৈরি করা হয়েছে এবং চলতি মাসে প্রতিটি বিটে কলাগাছ রোপণের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। তিনি জানান, বন বিভাগ এবং ইআরটি দল সার্বক্ষণিকভাবে হাতিকে জঙ্গলে ফিরিয়ে নিতে কাজ করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, হাতি মূলত খাদ্যের খোঁজে লোকালয়ে এসেছে। সীমান্তে পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা থাকলে হয়তো তারা লোকালয়ে আসত না। তিনি সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন