খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটভুক্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৮টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগরে আলরাজি কমপ্লেক্সে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সর্বদলীয় বৈঠক শেষে রাস্তা পার হওয়ার সময় তার ওপর এই হামলা চালানো হয়।
হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটভুক্ত জাগপার সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রিয়াজ এ হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাস্তা পার হওয়ার সময় কয়েকজন দুষ্কৃতকারী তাকে কুপিয়ে আহত করে।
এ ঘটনায় পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রমনা ও পল্টন থানার ডিউটি অফিসাররা এলাকা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেওয়ায় এ বিষয়ে পুলিশের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গণঅধিকার পরিষদ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ মোট ২২টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। বৈঠকে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের বিচারসহ পাঁচ দফা দাবি গৃহীত হয়।
এদিকে, খন্দকার লুৎফর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই হামলা একটি গভীর চক্রান্ত এবং আগামী নির্বাচনকে বানচাল করার ষড়যন্ত্র হতে পারে। তিনি অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
বিএনপি মহাসচিব প্রত্যাশা করেন, সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের ঐক্যই গণতন্ত্রবিরোধী ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করবে।
একইভাবে, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটও পৃথক বিবৃতিতে এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়। জোটের নেতারা হলেন সমন্বয়ক ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গোলাম মাওলা চৌধুরী, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, এম এন শাওন সাদেকী, ব্যারিস্টার নাসিম খান, খোকন চন্দ্র দাস, এস এম শাহাদাত এবং আবদুল্লাহ-আল-হারুন সোহেল।
বিবৃতিতে জোট নেতারা বলেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর সাম্প্রতিক হামলার সঙ্গে খন্দকার লুৎফর রহমানের ওপর এই হামলার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার পর দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
হামলার পর রাতেই বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম হাসপাতালে খন্দকার লুৎফর রহমানকে দেখতে যান। তিনি কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান।
পরে ডা. রফিক জানান, হামলায় খন্দকার লুৎফর রহমানের ডান হাঁটু, ডান হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে এবং একাধিক স্থানে সেলাই দিতে হয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন