খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম বৃদ্ধিতে দিশাহারা সাধারণ মানুষ। মানুষের আয় না বাড়লেও বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছেই। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। তথ্য-উপাত্ত বলছে, গত দুই মাসে দেশি পেঁয়াজ, ডাল, ডিম, মুরগি, মাছ ও কিছু সবজির দাম সর্বোচ্চ ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
বর্তমানে বাজারে গেলে ক্রেতাদের অসহায় অবস্থা চোখে পড়ে। খুচরা ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা দাম বাড়ার পেছনে একেক রকম কারণ দেখান। কিন্তু ক্রেতাদের কথা শোনার কেউ নেই। বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এর কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট, বাজার তদারকির অভাব, দুর্বল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্যকে দায়ী করছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার এবং টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে দেশি পেঁয়াজ ৩৩-৩৬% বেড়ে ৭৫-৮০ টাকা, ডিম ১৭% বেড়ে ১৪০-১৪৫ টাকা ডজন এবং সোনালি মুরগি ৭% বেড়ে ৩০০-৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, মসুর ডাল ১৪% বেড়ে ১৬০ টাকা, রুই মাছ ১২-১৪% বেড়ে ৪০০-৪৫০ টাকা এবং বেগুন ৩৩-৬০% বেড়ে ১০০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর দাম ৬০-৮৭% বেড়ে ১৫০-১৬০ টাকায় ঠেকেছে। করলা ও বরবটি ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে সস্তা সবজি পেঁপে ও আলু যথাক্রমে ৩৫-৪০ ও ২৫-৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
মহাখালী কাঁচাবাজারের ক্রেতা হেলাল উদ্দিন বলেন, বাজারে সরকারের নজর না থাকায় এই অবস্থা। সীমিত আয়ের মানুষ ঋণ করে চলতে বাধ্য হচ্ছে।
জোয়ারসাহারা বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. রবিউল ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টির কারণে সবজির ফলন কম হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কম।
ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘ভোক্তা’-এর নির্বাহী পরিচালক মো. খলিলুর রহমান সজল বলেন, বাজার অস্থির হলে তা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। নরসিংদীতে যে বেগুনের দাম ৬০-৬৫ টাকা, ঢাকায় তা ১৫০-১৮০ টাকায় বিক্রি হয়। তিনি বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থায় সক্রিয় একটি চক্র অতিমুনাফা লুটছে। কৃষকরা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হলেও মধ্যস্বত্বভোগীরা কয়েক গুণ বেশি দামে তা বিক্রি করে। তিনি এই চক্র ভাঙতে সরকারের নিয়মিত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। চালের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন