খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ব্যাংক লোকশান করলে মালিকরা লভ্যাংশ ও কর্মকর্তারা বোনাস পাবেন না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
গভর্নর বলেন, অর্থ পাচার ঠেকানোয় এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে রিজার্ভের পরিমাণ বেড়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ ২৯ শতাংশ বেড়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েক বছর দেশের অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। ব্যালেন্স অব পেমেন্টের সব খাতে এখন উদ্বৃত্ত দেখা যাচ্ছে যার অন্যতম কারণ হলো রেমিট্যান্স বেড়েছে এবং রপ্তানিতেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।’
গভর্নরের ভাষায়, ‘টাকা পাচারের ক্ষেত্রে হুন্ডির দাপট কমেছে। আগে প্রবাসী আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশই হুন্ডির মাধ্যমে লিক হয়ে যেত। এখন সেই সুযোগ নেই। কমিশন বাণিজ্য ও অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে আমদানি করে অর্থ পাচার করার প্রবণতাও হ্রাস পেয়েছে। এসব পরিবর্তনের পেছনে সুশাসনের ভূমিকা রয়েছে।’
ব্যাংক খাতে সংস্কারের বিষয়ে গভর্নর বলেন, ‘যেসব ব্যাংকের মূলধন ১০ শতাংশের নিচে এবং যারা প্রভিশন ঘাটতিতে রয়েছে, তারা ডিভিডেন্ড বা বোনাস দিতে পারবে না। সেইসঙ্গে, কোনো ঋণ তিন মাস অনাদায়ী থাকলে সেটিকে ‘নন-পারফর্মিং লোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।’
টাকার বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে গভর্নর জানান, ‘গত এক মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে এক বিলিয়ন ডলার কিনেছে, কিন্তু ডলারের দাম বাড়েনি। অর্থাৎ ডলারের কোনো সংকট নেই। তবে টাকার সরবরাহে কিছুটা টান রয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা কাজ করছি।’
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ নিয়েও কথা বলেন তিনি। ‘চালসহ নিত্যপণ্যের কিছু দাম বাড়ায় আগস্টে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। তবে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সেই অনুযায়ী কাজ চলছে, যদিও এটি রাতারাতি সম্ভব নয়।’
ব্যাংক খাতের কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে গভর্নর জানান, সরকার ৫টি ব্যাংক একীভূত করার বিষয়ে কাজ করছে। রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে এর ফল মিলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সবশেষে গভর্নর বলেন, ‘এই একীভূত প্রক্রিয়া শুধু ব্যাংক ব্যবস্থাপনাকে নয়, বরং আমানতকারী ও কর্মকর্তাদের স্বার্থও সুরক্ষিত রাখবে।’
খবরওয়ালা/এসআর